আজকের বিশ্বের সব গুরুত্বপূর্ণ খবর | Nagorik TV
FULL TRANSCRIPT
হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে এখন একটাই
প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র কি
ইরানে হামলা করবে? আর যদি করে সেটা কেমন
হবে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
তার জাতীয় নিরাপত্তা দলকে খুব স্পষ্ট করে
একটি বার্তা দিয়েছেন। যদি যুক্তরাষ্ট্র
ইরানে হামলা করে তাহলে সেটা হতে হবে খুব
দ্রুত খুব শক্তিশালী। আর সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ কথা এই যুদ্ধ যেন
আফগানিস্তান বা ইরাকের মত দীর্ঘ
ক্লান্তিকর যুদ্ধে পরিণত না হয়। এনবিসি
নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ট্রাম্প
চান এমন একটি সামরিক পদক্ষেপ যা একেবারে
চূড়ান্ত আঘাত হবে যাতে ইরানের সংকট
কয়েকদিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যায় মাসের পর
মাস ধরে না চলে। কিন্তু এখানেই সমস্যা।
ট্রাম্পের উপদেষ্টারা তাকে নিশ্চিত করে
বলতে পারছেন না যে শুধু একটি মার্কিন
হামলাতেই ইরানের সরকার ভেঙে পড়বে। বরং
উল্টো আশঙ্কা আছে ইরান ভয়ঙ্করভাবে পাল্টা
হামলা চালাতে পারে। আর সেই হামলা সামাল
দেয়ার মতো পর্যাপ্ত সেনা ও অস্ত্র হয়তো
এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নেই
যুক্তরাষ্ট্রের। এই অনিশ্চয়তার কারণেই
হোয়াইট হাউস এখন বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে
ভাবছে। আলোচনায় আছে লিমিটেড স্ট্রাইক বা
সীমিত হামলার কথা। অর্থাৎ শুরুতে ছোট
পরিসরে আঘাত করা হবে। পরিস্থিতি খারাপ হলে
পরে বড় হামলার পথ খোলা থাকবে। তবে
প্রকাশ্যে ট্রাম্প শক্ত অবস্থানই
দেখাচ্ছেন। ডেট্রয়েটে এক বক্তব্যে তিনি
ইরানের বিক্ষোবকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন,
সাহায্য আসছে। তিনি বলেন, ইরানের
পরিস্থিতি খুবই নাজুক। ট্রাম্প সরাসরি
ইরানীদের বলেন, তোমরা আন্দোলন চালিয়ে
যাও। যারা হত্যা করছে, যারা নির্যাতন করছে
তাদের নাম লিখে রাখ। তারা বড় মূল্য দেবে।
ট্রাম্প জানান তিনি ইরানের কর্মকর্তাদের
সঙ্গে সব ধরনের বৈঠক বাতিল করেছেন।
পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা
দেশগুলোর উপর নতুন শুল্কও কার্যকর করেছেন।
তার ভাষায় মেক ইরান গ্রেট এগেইন। ইরান
একসময় মহান দেশ ছিল। কিন্তু এখন কিছু
দানব সেটাকে দখল করে নিয়েছে। এরপর ওভাল
অফিসের ট্রাম্প বলেন, নতুন গোয়েন্দা তথ্য
অনুযায়ী ইরান নাকি বিক্ষোবকারীদের হত্যা
বন্ধ করেছে এবং ফাঁসি কার্যকর করার
পরিকল্পনাও স্থগিত করেছে। এই দুই বিষয়
ছিল তার রেডলাইন। যা অতিক্রম করলে
যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
তবে তিনি সতর্কভাবে বলেন, আমরা দেখবো
পরিস্থিতি কোন দিকে যায়। সাংবাদিকরা
প্রশ্ন করলে ট্রাম্প বলেন নির্ভরযোগ্য
সূত্র থেকে তাকে জানানো হয়েছে যে কোন
ফাঁসি হবে না। যদিও তিনি নিজেও স্বীকার
করেন সব তথ্যের সত্যতা এখনো নিশ্চিত নয়।
কিন্তু পর্দার আড়ালে ভিন্ন চিত্র।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন ট্রাম্প এখনো
হামলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি
বারবার ইরানের বিক্ষোবকারীদের আশ্বাস
দিয়েছেন প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র
সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করবে। ট্রাম্প তার
লক্ষ্যগুলো জাতীয় নিরাপত্তা দলের সামনে
তুলে ধরেন। এরপর পেন্টাগন সেই অনুযায়ী
বিভিন্ন সামরিক পরিকল্পনা তৈরি করে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে সব অপশন এখনো
টেবিলে আছে। এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল
কমান্ড সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি
নিয়েছে। তবে আশঙ্কা আছে ইরান আরো বিপদজনক
হয়ে উঠতে পারে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাটি
বা ইসরাইলের মত মিত্রদের উপর হামলা চালাতে
পারে। এ কারণে কাতারের আল উদেদ ঘাটি থেকে
শত শত মার্কিন সেনাকে নিরাপদ জায়গায়
সরিয়ে নেয়া হয়। যুদ্ধের জন্য পুরো সেনা
সমাবেশ না হলেও বিমান, জাহাজ ও সেনারা
প্রস্তুত রয়েছে সীমিত হামলার জন্য।
আমেরিকা কি সত্যিই ইরানে হামলা করতে ভয়
পাচ্ছে নাকি চাপের মুখে ট্রাম্পকে কথা
বলতে হচ্ছে? আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি
বড় প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র
কি ইরানের সামরিক হামলা করতে যাচ্ছে নাকি
শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক আলোচনা দিয়ে ফিরছে
ওয়াশিংটন? এই প্রশ্নের পেছনে কারণও কম
নয়। একই দিকে ইরান জুড়ে সরকার বিরোধী
বিক্ষোপ। অন্যদিকে ট্রাম্পের হুমকি। আবার
একই সঙ্গে গোপন আলোচনার খবর। সব মিলিয়ে
পরিস্থিতি বেশ জটিল। এক চাঞ্চলকর খবর
প্রকাশ করেছে টাইমস অফ ইসরাইল। তাদের দাবি
অনুযায়ী ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস
আরাকচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত
স্টিফ উইটকফ একটি গোপন ও বিরল ফোন আলাপে
কথা বলেছেন। এই আলোচনা ছিল অত্যন্ত
সংবেদনশীল। কারণ তখনই ইরানে চলছিল ভয়াবহ
সরকার বিরোধী আন্দোলন। আর যুক্তরাষ্ট্র
প্রকাশ্যে ইরান সরকারকে দোষারোপ করছিল
বিক্ষোবকারীদের হত্যার জন্য। এই কথোপকথনে
মূলত তিনটি বিষয় উঠে এসেছে। এক ইরানের
চলমান বিক্ষোপ। দুই, পরিস্থিতি কিভাবে
নিয়ন্ত্রণে আনা যায়? তিন, যাতে পুরো
মধ্যপ্রাচ্য একটি বড় যুদ্ধে জড়িয়ে না
পড়ে। অর্থাৎ পর্দার আড়ালে হলেও কূটনৈতিক
দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ইরান কি ভয়
পাচ্ছে মার্কিন হামলার? ইসরাইল
গণমাধ্যমগুলো বলছে, এই যোগাযোগ আসলে
ইরানের পক্ষ থেকেই এসেছে। কারণ ইরান বুঝতে
পারছে যদি পরিস্থিতি আরো খারাপ হয় তাহলে
যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
তাই ইরান হয়তো সময় নিতে চাইছে। আলোচনার
মাধ্যমে উত্তেজনা কিছুটা কমিয়ে আনার
চেষ্টা করছে। এমনকি এক্সিওস দাবি করেছে
দুই পক্ষের মধ্যে শিঘরি সরাসরি বৈঠক হতে
পারে। যদিও এখনো কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু
স্বীকার করেনি। ট্রাম্পের হুমকি, কথা আর
কাজের ফারাক। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
প্রকাশ্যে বারবার বলেছেন, ইরানি
বিক্ষোবকারীদের হত্যার দায় সরাসরি
সরকারের। তিনি হুশিয়ারি দিয়েছেন, আমরা
চুপ করে বসে থাকবো না। এখানেই আসি সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দ টেলিগ্রাফ
জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক
কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে হামলা না করতে
সতর্ক করেছেন। তাদের যুক্তি মার্কিন
বাহিনী এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।
মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলো ঝুঁকিয়ে
মুখে পড়তে পারে। ইরানে হামলা মানেই শুধু
ইরান নয় তার মিত্র গোষ্ঠীগুলো জড়িয়ে
পড়বে। হামলা হলে লেবানন, সিরিয়া, ইরাক
সব জায়গায় আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে।
অর্থাৎ এটা হবে চেইন রিএকশন। হোয়াইট হাউস
কি বলছে? হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি
কারো লাভেট পরিষ্কারভাবে বলেছেন ট্রাম্প
সব অপসর খোলা রাখেন। সামরিক হামলা একেবারে
বাদ দেয়া হয়নি। তবে কূটনীতি প্রথম
পছন্দ। তিনি আরো বলেন, ইরান প্রকাশে যা
বলছে গোপনে তারা অন্য বার্তা পাঠাচ্ছে। আর
ট্রাম্প সে বার্তাগুলো গুরুত্ব দিয়ে
দেখছেন। ইরানে পাল্টা শক্তি প্রদর্শন।
এদিকে 12ই জানুয়ারি তেহরানে হয়েছে বড়
সরকারপন্থী সমাবেশ। সেখানে আয়াতুল্লাহ
আলী খামেনর সমর্থকেরা রাস্তায় নেমে শক্তি
প্রদর্শন করেন। এর উদ্দেশ্য স্পষ্ট। দেশের
ভেতরে বার্তা দেয়া বাইরের বিশ্বকে দেখানো
সরকার এখনো নিয়ন্ত্রণে। যুক্তরাষ্ট্র
এখনো ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নেয়নি।
একইদিকে চাপ, হুমকি, সেনাপ্রস্তুতি,
অন্যদিকে গোপন আলোচনা, কূটনীতি, সময়
নেয়া।
ইরান যুক্তরাষ্ট্র সংঘর্ষের নতুন উত্তাপ।
ইরানের আকাশে ছিল এক অদ্ভুত নীরবতা। রাতের
অন্ধকারে মাত্র দুইটি বিমান দেখা গেছে
আকাশে এবং উঠছে শুধু মাহানিয়ারের দুটি
ফ্লাইট। পুরো দেশের বাকি বাণিজ্যিক
ট্রাফিক জমে রইল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এটি
অস্বাভাবিক নয় কারণ আঞ্চলিক উত্তেজনার
কারণে বিমান চলাচল প্রায় বন্ধ। এই দুই
ফ্লাইট এসেছে দক্ষিণ চীনের গুয়াংচু এবং
সেনজেন থেকে। লক্ষ্য সরাসরি তেহরান।
মাহানিয়র্কে আগে থেকেই মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্র সন্দেহ করছে। তারা অভিযোগ
করে এই বিমান সংস্থা ইরানের ইসলামিক
রিভলিউশনারি গার্ডসকে অস্ত্র সরঞ্জাম এবং
অর্থ পাঠানোর কাজে যুক্ত। অবশ্য ইরান এই
অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। আকাশপথ বন্ধ।
ইরানের সীমান্তে যুদ্ধের ছাপ। এই দুই
ঘন্টা বিশেষ অনুমতি ছাড়া কেউ উঠতে পারলো
না। সাধারণ যাত্রী বাণিজ্যিক বিমান সবাই
থেমে গেল। এ যেন আকাশে একটা অদৃশ্য
যুদ্ধের ইঙ্গিত। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে
ইরানের বিমান চলাচল বারবার ব্যহত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, সেনা সংঘাত,
নিরাপত্তা সতর্কতা সবই যেন বিমানগুলোকে
দূরে সরিয়ে রাখে। চীনও এবার মাঠে নেমেছে
কিন্তু ছায়া খেলোয়াড়ের মত। গত অক্টোবর
থেকে চীন নীরবে সাহায্য করেছে ইরানের
ব্যালাস্টিক মিজাইল প্রোগ্রামে। মার্কিন
এবং ইউরোপীয় গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে
ইরান নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মিসাইল
প্রযোজনা চালু করেছে। চীনের কাছ থেকে 2000
টনের সোডিয়াম পার ক্লোরেড এসেছে। যা
মিসাইলের মূল উপাদান। এ যেন যুদ্ধের ছক
একপাত্রে তৈরি হচ্ছে। আকাশে শান্তি নেই,
রাস্তায়ও নেই। উর্নিয়ায় বিক্ষোবকারীরা
পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে সামনাসামনি লড়ছে।
কেউ অবরুদ্ধ রাস্তা থেকে ইট ছুড়ে দিচ্ছে,
কেউ চিৎকার করছে ডেথ টু দ্যা ডিক্টেটর।
কারাগিতে গাড়ি ভেঙে রাখা হয়েছে। দেয়ালে
লেখা ডেথ টু কামি। একেক শব্দ যেন মৃত্যুর
ঝড়ের বার্তা। চীন সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে
দুনিয়া বলল, আপনি অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ
বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছেন। আন্তর্জাতিক আইন
মেনে চলুন। রাশিয়া একসাথে যোগ করলেও
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক
নিয়মবাহিত ব্যবস্থাকে ধ্বংস করছে। আমরা
তেহরানের পাশে রয়েছি। আন্তর্জাতিক চাপ,
কূটনৈতিক আক্রমণ কিন্তু তেহরানও পিছপায়
নয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস
আরাকচজি জানালেন, আমরা যুদ্ধের জন্য
প্রস্তুত। কিন্তু সংলাপও খোলা। আমাদের
সেনারা সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে। যদি মার্কিন
বা ইসরাইল ভুল থাকে আমরা কঠোরভাবে
প্রতিক্রিয়া দেখাবো।
যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই নাগরিকদের সতর্ক
করেছে ইরান ছাড়ুন। এদিকে
পেন্সিলভেনিয়ায় ট্রাম্পের উপর হামলার
রক্তমাখা ছবি দেখিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয়
টিভি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছে এবার আর বুলেট
লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে না। তেহরানে এক শেষ
বৃত্ত অনুষ্ঠান চলার সময় ক্যাপশনে পারসী
ভাষায় বার্তাটি দেয় দেশটির টিভি
চ্যানেল। ইসরাইলের আই 24ফ নিউজ এবং
জেরুজালেম পোস্ট পত্রিকার এক সাংবাদিক
পার্সি ভাষা থেকে অনুবাদ করে এক্সে এই
পোস্টটি শেয়ার করেন। এমন পরিস্থিতিতে
ট্রাম্প প্রকাশী হুমকি দিয়ে বলেন, ইরান
যদি কঠোরভাবে বিক্ষোবে দমন পীড়ন চালায়
তবে যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোবকারীদেরকে
উদ্ধারে এগিয়ে আসবে। ট্রাম্পের এই
মন্তব্য ঘিরেই চোটেছে ইরান। 2024 সালের
জুলাই মাসে পেন্সিলভেনিয়ার জনসভায়
বন্দুকধারীর গুলি থেকে অল্পের জন্য রক্ষা
পায় ট্রাম্প। কান ঘেসিয়ে বেরিয়ে যাওয়া
সেই গুলিতে তার রক্তপাত হয়েছিল। ইরানকে
নিয়ে মন্তব্যের জেড়ে ট্রাম্পের সেই
রক্তমাখা মুখ, মুষ্টিবদ্ধ হাত আর কান ঘেসে
বেরিয়ে যাওয়া বুলেটের স্মৃতির ছবি
সম্প্রচার করে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে
হুশিয়ারি দিয়ে রাখলো দেশটির টিভি
চ্যানেল। ট্রাম্পকে দেয়া এটি ইরানের
সবচেয়ে স্পষ্ট হুমকি।
ইরানে চলমান অস্থিরতা এবং সম্ভাব্য
যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যে এবার নতুন করে
সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস একটি
নতুন নিরাপত্তা সতর্ক বার্তা প্রকাশ করেছে
যা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছে পরিস্থিতি
যেকোনো সময় খারাপের দিকে যেতে পারে।
মার্কিন নাগরিকদের বলা হয়েছে তারা যেন
তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা নতুন করে
পর্যালোচনা করেন এবং হঠাৎ কোন জরুরি
পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকেন। দূতাবাস
বলছে এই সতর্কতার পেছনে রয়েছে চলমান
আঞ্চলিক উত্তেজনা। যার সঙ্গে এখন সরাসরি
যুক্ত হয়ে গেছে ইরানের দেশ জুড়ে চলা
বিক্ষোপ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের
বিরুদ্ধে তেহরানের ক্রমবর্ধমান হুমকি।
ইরান এই মুহূর্তে কয়েক দশকের মধ্যে
সবচেয়ে অস্থির সময় পার করছে। দেশ জুড়ে
বিক্ষোপ দ্রুত বিচার করা নিরাপত্তা
ব্যবস্থা এবং প্রতিশোধের হুশিয়ারী। সব
মিলিয়ে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে।
ইরানের নেতারা স্পষ্ট করে বলেছেন,
যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল যদি হস্তক্ষেপ করে
তাহলে তার ফল ভোগ করতে হবে। এই বক্তব্যই
পুরো অঞ্চল জুড়ে বড় সংঘাতের আশঙ্কা আরো
বাড়িয়ে তুলেছে। এই প্রেক্ষাপটে ইসরাইলে
থাকা মার্কিন নাগরিকদের ব্যক্তিগত
নিরাপত্তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে
দূতাবাস। সবাইকে বলা হয়েছে সতর্ক থাকতে
হবে। সরকারি নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ
করতে হবে এবং পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হলে
সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য
মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। মার্কিন
নাগরিকদের স্টেপ বা স্মার্ট ট্রাভেলার
এনরোলমেন্ট প্রোগ্রামে নাম লেখানোর
পরামর্শ দেয়া হয়েছে। যাতে জরুরি
অবস্থায় দ্রুত যোগাযোগ করা যায়।
পাশাপাশি পাসপোর্ট যেন হায়নাগা থাকে সে
বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কারণ হঠাৎ
করেই দেশ ছাড়ার প্রয়োজন হতে পারে। এর
আগেই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আরো কঠোর
একটি সতর্কতা জারি করেছে। ইরানে থাকা সব
মার্কিন নাগরিককে অবিলম্বে দেশ ছাত্র বলা
হয়েছে। ভাষাটি ছিল খুবই কঠিন এবং সরাসরি।
বলা হয়েছে কোন ধরনের সাহায্য, সুরক্ষা বা
উদ্ধার অভিযান আশা করা যাবে না। অর্থাৎ
যদি কেউ সমস্যায় পড়ে যুক্তরাষ্ট্র কিছুই
করতে পারবে না।
এখনই ইরান ছাড়ে। এই বার্তায় কার্যত
পৌঁছে দেয়া হয়েছে মার্কিন নাগরিকদের
কাছে। ইরানে চলমান বিক্ষোপ ইতিমধ্যেই
ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পুলিশের সঙ্গে
সংঘর্ষে বহু মানুষ নিহত হয়েছে। সরকার
ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করেছে। দেশের বড়
অংশে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ
করে দেয়া হয়েছে। সরকারের দাবি এসব
বিক্ষোপ বিদেশী শক্তির উস্কানিতে হচ্ছে।
মার্কিন ভার্চুয়াল দূতাবাস জানিয়েছে
এমনকি শুধু আমেরিকান পাসপোর্ট বহন করা ও
গ্রেপ্তারের কারণ হতে পারে। দ্বৈত
নাগরিকদের বলা হয়েছে তারা যেন শুধু ইরানি
পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশ ছাড়েন। যারা
দেশ ছাড়তে পারছেন না তাদের নিরাপদ
জায়গায় আশ্রয় নেয়া এবং খাবার, পানি,
ঔষুধ মজুদ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এই
সংকটের পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল
ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা। গত
বিশ্বে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায়
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর থেকেই
পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে। প্রেসিডেন্ট
ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন ইরানকে
পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে আটকাতেই এই
হামলা করা হয়েছে যা ইরান অস্বীকার করছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে ট্রাম্প সব বিকল্প
খোলা রেখেছেন। প্রয়োজন সামরিক শক্তি
ব্যবহার করতেও তিনি পিছপা হবেন না। ইরান
পাল্টা হুশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র বা
ইসরাইল হস্তক্ষেপ করলে তাদের ঘাঁটি ও
সেনারা লক্ষ্যবস্ত হবে। একই সঙ্গে ইরান
দাবি করেছে তারা বিদেশী গুপ্তচর ও নাশকতার
প্রমাণ পেয়েছে।
ইরান প্রকাশ্য বলে দিচ্ছে আমাদের দিকে
তাকানোর চোখটাই উপরে ফেলবো। কোন সিনেমার
সংলাপ না এটা এসেছে ইরানের ইসলামিক
রেভলিউশনারি গার্ড কার্ভস আইআরজিসির শীর্ষ
কমান্ডারের মুখ থেকে। ইরানের আইআরজিসি
স্থলবাহিনীর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল
মোহাম্মদ কারামি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা
দিয়েছেন ইরানের সেনাবাহিনী এখন ফুল রেডি।
কেউ যদি ভুল করে ইরানের উপর হামলার চিন্তা
করে তাহলে তার জবাব হবে দ্রুত, কঠোর এবং
চূড়ান্ত। কারামে বলেন, ইরানের সশস্ত্র
বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয় এখন সর্বোচ্চ
পর্যায়ে। স্থল, আকাশ, সাইবার সবদিকেই
প্রস্তুতি চলছে। প্রতিদিন নতুন সক্ষমতা
তৈরি করা হচ্ছে যেন নতুন ধরনের হুমকি এলেই
সঙ্গে সঙ্গে মোকাবিলা করা যায়। কিন্তু
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ আছে
হাইব্রিড ওয়ার। কারামির দাবি অনুযায়ী
ইরান এখন শুধু সামরিক যুদ্ধের মুখে নয়।
তারা লড়ছে একসাথে অনেকগুলো ফ্রন্টে।
অর্থনৈতিক চাপ, সামাজিক অস্থিরতা,
সাংস্কৃতিক আক্রমণ, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র,
সাইবার হামলা, নিরাপত্তা হুমকি। অর্থাৎ
এটা বন্দুক বনাম বন্দুকের লড়াই না। এটা
পুরো সিস্টেম ভেঙে দেয়ার যুদ্ধ। তবুও
কারামে বলছেন, ইরানের নিরাপত্তা সীমান্ত
থেকে শুরু করে দেশের গভীর পর্যন্ত
পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আছে। তার সেই
বিখ্যাত হুশিয়ারি যে চোখ আমাদের ভূমির
দিকে লোভ করে তাকাবে সেই চোখ কুকড়ে ফেলা
হবে। এদিকে শুধু স্থলবাহিনী নয় আকাশ থেকে
হুশিয়ারি এসেছে। আইআরজিসির এরোস্পেস
ফোর্সের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল
মাজিদ মুসা জানিয়েছেন ইরানের
ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
এখন সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।
তিনি বলেন, যদি কেউ ইরানের জনগণের উপর
হামলা চালায় তাহলে জবাব হবে নির্ণায়ক ও
বিধ্বংসী। আর এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
তথ্যটা আসে। মুসাফির দাবি অনুযায়ী
সাম্প্রতিক 12 দিনের যুদ্ধের পর ইরানের
ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন আগের চেয়ে আরো
বেড়েছে। মানে যুদ্ধ ইরানকে দুর্বল করেনি
বরং আরো প্রস্তুত করেছে। এর আগেও ইরানের
প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদে
বলেছিলেন, ইরানের হাতে এমন কিছু চমক আছে
যেগুলো হামলাকারীরা কল্পনাও করতে পারবে
না। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইরানে
হামলা হলে শুধু হামলাকারী দেশই নয় যারা
সেই হামলায় সহযোগিতা করবে তাদের খাঁটি,
স্বার্থ সবই বৈধ লক্ষ্যবস্ত হবে। পৃথিবীর
যেখানেই থাকুক না কেন।
এখন প্রশ্ন যুক্তরাষ্ট্র কি করছে? এদিকে
যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্ররা
কাতারের আল উদাইদ ঘাটিতে নতুন ইয়ারো
মিসাইল ডিফেন্স সমন্বয়ে সেল চালু করেছে।
উদ্দেশ্য মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে একসাথে
প্রতিরক্ষা জোরদার করা। রাইটার্সের তথ্য
অনুযায়ী ইরান আগেই প্রতিবেশী দেশগুলোকে
সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা করে
তাহলে ওই দেশগুলোর ভেতরে থাকা মার্কিন
ঘাঁটিও নিরাপদ থাকবে না। এমনকি আল উদাইদ
ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনাদের 14ই
জানুয়ারির মধ্যে সরে যেতে বলা হয়।
প্রতিরক্ষা জোরদার করা হয়েছে। হামলার
অপশন টেবিলেই আছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি
এখন একেবারে আগুন। একই ইরান বলছে আমরা
প্রস্তুত। ভয় পাই না। অন্যদিকে
যুক্তরাষ্ট্র বলছে দেখি কি হয়।
আল্লাহু
UNLOCK MORE
Sign up free to access premium features
INTERACTIVE VIEWER
Watch the video with synced subtitles, adjustable overlay, and full playback control.
AI SUMMARY
Get an instant AI-generated summary of the video content, key points, and takeaways.
TRANSLATE
Translate the transcript to 100+ languages with one click. Download in any format.
MIND MAP
Visualize the transcript as an interactive mind map. Understand structure at a glance.
CHAT WITH TRANSCRIPT
Ask questions about the video content. Get answers powered by AI directly from the transcript.
GET MORE FROM YOUR TRANSCRIPTS
Sign up for free and unlock interactive viewer, AI summaries, translations, mind maps, and more. No credit card required.