নবিদের বংশ পরিচয় | মুসলমানদের বিজয়ের ইতিহাস মুফতি আরিফ বিন হাবিব | mufti arif bin habib new waz
FULL TRANSCRIPT
ইসমাইল নবীর 13 বছর পর ইব্রাহিম নবীর
আরেকটা ছেলে হইছে। নাম ইসহাক। ইসমাইল এবং
ইসহাক দোনজনই ইব্রাহিম নবীর বার্ধক্য যখন
বয়স তখন হয়েছে। কোরআনে আছে।
আলহামদুলিল্লাহিল্লা ওহাবা আলাল কিবা
ইসমাইল
ইসহাক। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। যিনি
আমাকে বার্ধক্য থাকা সত্ত্বেও দুজন সন্তান
দান করেছেন। একজন ইসমাইল আরেকজন ইসহাক।
সুবহানাল্লাহ।
তাহলে ইসমাইল নবীর 13 বছর পর যে সন্তানটা
হয়েছে তার নাম
ইসহাক। ইসহাক আলাইহিস সালাতু ওয়াস
সালাম তার একজন সন্তান হয়েছে নাম হলো
ইয়াকুব।
ইয়াকুব নবীর জন্ম দাদা ইব্রাহিম দুনিয়াতে
থাকতে মনে রাখবেন ইব্রাহিম নবীর ছেলে
ইসহাক ইসহাক নবীর ছেলে ইয়াকুব তো সম্পর্কে
ইব্রাহিম নবী ইয়াকুব নবীর দাদা এ দাদা
ইব্রাহিম নবী দুনিয়াতে থাকতে ইয়াকুব নবীর
জন্য ইয়াকুব নবী ফিলিস্তিন থেকে হিজরত করে
তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চল হাররানে চলে
যায় সেখানে যাওয়ার পর
আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন তাকে কিছু
পুত্র সন্তান দান করেছেন। 12 জন পুত্র
সন্তান হয় ইয়াকুব নবী।
12 জনের মধ্যে একজন পুত্র সন্তানের নাম
ইউসুফ আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম। একদম
এদিক সেদিক তাকাবেন না। কিচ্ছু বুঝবেন না।
পুরা মন দিয়ে শুনতে হবে
না। তাহলে ইব্রাহিম নবীর দ্বিতীয় সন্তান
ইসহাক। ইসহাক নবীর সন্তান ইয়াকুব। ইয়াকুব
নবীর সন্তান
ইউসুফ। আপনারা জেনে থাকার কথা
লম্বা একটা সুন্দর হিস্টরি ঘটনার মাধ্যমে
ইউসুফ নবী তার ভাইদের দ্বারা নির্যাতনের
শিকার হয়ে কুপের মধ্যে তিনি নিক্ষিপ্ত
হলেন। সেখান থেকে পথচারীরা তাকে পেয়ে
বিক্রি করে দিল মিশরের আজিজের কাছে।
মন্ত্রীর কাছে।
মিশরের মন্ত্রী তাকে নিয়ে গেলেন মিশর।
তাহলে ইউসুফ নবী একটা ঘটনার মাধ্যমে চলে
গেলেন মিশর।
মিশর যাওয়ার পর আরো সুন্দর এক ঘটনার
মাধ্যমে চলে গেলেন জেলখানায়।
জেলখানায় সাত বছর বা 12 বছর থাকার পর
তিনি বের
হলেন। বের হওয়ার পর আরো সুন্দর ঘটনার
মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা মিশরের খাদ্য
মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ইউসুফ নবীকে
অধিষ্ঠিত করে দিলেন।
আশেপাশের এলাকাগুলোতেও দুর্ভিক্ষ দেখা
দিয়েছে। সেই
সূত্রে ইউসুফ নবীর অন্যান্য ভাই যারা
তারা খাদ্য সংগ্রহ করার জন্য মিশরে
আসে। এখানেও লম্বা একটা ঘটনার মাধ্যমে
ভাইদের সাথে ইউসুফ নবীর পরিচয়
হয়। ইউসুফ নবী পরবর্তীতে তার বাবা
ইয়াকুব নবীকে মিশরে নিয়ে
আসেন। তাহলে ইয়াকুব নবী কোথায় চলে আসলো?
মিশর।
ইউসুফ নবী আর তার ভাইয়েরা মিশরে ছিলেন
প্রায় 150 বছর। কয়
বছর?
150। 150 বছর থাকার পর ইউসুফ নবী বিদায়
নিলেন। এখানে একটা বিষয় মনে রাখা। আমার
সাথে সবাই বলেন ইয়াকুব নবীর। বলেন
আরেকটি নাম
ইসরাইল। ইসল
বলেন ইসরাইলের সন্তান ইসরাইলের সন্তান
এটার আরবি
বনি ইসরাইল
তথা ইসরাইলের সন্তান
অর্থাৎ ইয়াকুব নবীর সন্তান তাহলে বনী
ইসরাইল কারা ইয়াকুব নবীর সন্তান মানে বনি
ইসরাইল ইসরাইলের সন্তান আর ইসরাইল জানি
কোন নবীর নাম ইয়াকুব নবীর নাম তাহলে
ইয়াকুব নবীর সন্তানদেরকে বলা হয় বনী
ইসরাইল। আমরা হিস্টরিতে ঢুকে গেলাম। খুব
মন
দেন। 150 বছর ইউসুফ নবী এবং তার ভাইয়েরা
মিশর থাকার
পর এরপরে ইউসুফ নবী বিদায়
নিলেন। বনী ইসরাইল যারা আচ্ছা বনী ইসরাইল
জানি কারা? কোন নবীর
সন্তান? সন্তান। ইসরাইলের সন্তান না
ইয়াকুব নবীর সন্তান।
আরো যদি মনে রাখতে চান আরেকটা সুন্দর কথা
সেটা হলো ইসরাইলের একটা সুন্দর অনুবাদ
আছে। ইসরা অর্থ বান্দা। ইল অর্থ আল্লাহ।
ইসরাইল মানে আল্লাহর বান্দা।
সুবহানাল্লাহ। ভাই অত কিছু মনে রাখতে গিয়ে
আবার আসল ঘটনা হারা ফেলেন
না। তো বনি ইসরাইল মানে ইসরাইলের সন্তান।
খালি এতটুকু মনে
রাখেন। ইউসুফ নবী বিদায় নেওয়ার পর বন
ইসরাইল যারা তাদের মাঝে
কিছু আক্রমণ শুরু
হলো। মূর্তিপূজারী যারা তাদের পক্ষ থেকে
বনী ইসরাইলের উপর হামলা চালানো শুরু হলো।
হামলা চলল লাগাতার 300 বছর। কয় বছর?
300। এই 300 বছর তারা হামলার শিকার হয়ে এক
পর্যায়ে তাদের মাঝে
লুটতরাজ, ডাকাতি, হিংসা, বিদ্বেষ, অহংকার
এই স্বভাবগুলা বনি ইসরাইলের মাঝেও চলে
আসে।
তারাও আস্তে আস্তে আল্লাহর একত্ববাদের
পরিবর্তে তারা পত্তুলিকতায় ধাবিত হতে
লাগলো। তাদের মধ্যেও আল্লাহ ছাড়া অন্য যত
অপরাধ আছে সব তাদের মাঝেও শুরু হয়ে গেল।
নাউজুবিল্লাহ। কাদের মাঝে? বনী ইসরাইল।
বনী ইসরাইল মানে বর্তমানে যে রূপটা আমরা
ইহুদিদের দেখি এই রূপটা তাদের মাঝে চলে
আসছে। এইভাবে চলতে চলতে খ্রিষ্টপূর্ব 1250
এ আল্লাহ তাআলা বনী ইসরাইলের
মাঝে মহা মর্যাদাপূর্ণ একজন নবীকে
পাঠাইলেন তার নাম মূসা আলাইহিস সালাতু
ওয়াস সালাম।
মুসা নবীকে আল্লাহ শত্রুর ঘরে লালন পালন
করলেন। শত্রুর নাম হলো
ফেরাউন। মুসা নবী একটা ঘটনা ঘটাইলেন।
একজনরে ঘুষি মারছে। মরে গেছে।
তিনি মিশর থেকে চলে গেলেন
মাদিয়ানে। সেখানে গিয়ে একটা ঘটনা ঘটছে।
ঘটনার পরে শোয়াইব নবীর সাথে তার দেখা।
পরবর্তীতে শোয়াইব নবীর কন্যাকে বিয়ে
করেছেন। আট বছর বা 10 বছর তিনি থাকলেন
শোয়াইব নবীর কাছে। 10 বছর
পর গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে তিনি আবার মিশর
রাওনা করলেন। পথিমধ্যে আল্লাহ তাআলা
অসাধারণ একটি ঘটনা ঘটিয়ে মুসা নবীকে
আল্লাহ নবুয়ত দান করলেন।
নবী হয়ে চলে আসলেন মিশর।
ফেরাউনকে দাওয়াত দিতে যাওয়ার আগে
আল্লাহকে বললেন আল্লাহ
আফতুল আমার ভয় হয় ফেরাউন তার বাহিনী
আমাকে হত্যা করবে কারণ আমিও তো একজনরে
ঘুষি মাইরা এখান থেকে
গেছিলাম সাথে সাথে বললেন আল্লাহ আমার মুখে
জবানে একটু জড়তা আছে আমার ভাই
হারুন তার মুখের ভাষা বড় চমৎকার আমার
চেয়ে সুন্দর কথা বলতে পারে হারুনকে আমার
সহযোগী বানায়া দেন। আল্লাহ হারুনকেও নবুয়ত
দান
করবেন। দুই ভাইকে বললেন ইদবালা
ফেরাউন। দুইজনে ফেরাউনের কাছে
যান। নরম ভাষায় দাওয়াত
দেন। ফেরাউনকে দাওয়াত দিল। ফেরাউন গ্রহণ
করল না। ফেরাউনের সামনে মোজেজা দেখানোর পর
ফেরাউন কয়, এগুলা তো জাদু।
জাদুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এরকম বিশাল
মাঠের মধ্যে একটা জাদুর প্রতিযোগিতা হলো।
মুসা নবীরটা তো জাদু না। এটা
মোজেজা। 36 হাজার জাদুকর। কেউ লেখছে
12,000, কেউ লেখছে
36। 36 হাজার জাদুকরের হাতে এক হাতে লাঠি
আরেক হাতে রশি।
লাঠি আর রশি তারা বানাবে সাপ। 36 দুগুনে
হয় 72 হাজার। এই 72 হাজার সাপ মাঠের মধ্যে
দৌড়াদৌড়ি করতেছে। মুসা নবীর ভিতরে একটু
ভয় ভয় কাজ করতেছিল। আল্লাহ
বললেন আপনি ভয় পাবেন
না। আপনিই বিজয়ী
হবেন। মাফ আপনার হাতে যেটা আছে ছাড়েন।
আপনি আপনার লাঠিটা আপনি
ছাড়েন। ছাড়ার সাথে সাথে দেখেন বিশাল বড়
এক সাপ। মুসা নবীর ওই লাঠি হইয়া হা কইরা
আছে। আসো সবাই আসো। যেগুলা মাঠে দৌড়াইতেছো
আসো। সব আইসা ঢুকছে। তালকফ ব্যাস। সব পেটে
ঢুকায়া ফেলছে। এখন সবগুলা সাপ কোথায়? এক
সাপের পেটে। আল্লাহ বললেন আবার ওটাতে হাত
দেন। হাত দিছে আবার লাঠি হয়া গেছে।
হাজার হাজার জাদুকর সাথে সাথে সেজদায়
লুটিয়ে পড়ে ঈমান।
ফেরাউনের লস হয়ে গেল।
এইভাবে করতে করতে প্রায়ছয় লাখের বেশি
মানুষ মুসলমান হয়ে
গেছে। ফেরাউন প্লাান করল মুসাকে এইভাবে আর
থাকতে দেওয়া যায় না। কি করব? সমূলে মুসা
আর মুসা বাহিনীকে হত্যা করব। আল্লাহ তালা
জানায়া দিলেন
আসবিবাদি। মুসা আপনি আমার বান্দাদেরকে
নিয়ে রাতের বেলা বের হয়ে যান। ইন্নাকুম
মুত্তাবা আপনাদেরকে পিছন থেকে ধাওয়া করা
হবে।
মুসা
নবী বিশাল জনগোষ্ঠি নিয়ে রওনা করলেন।
রাতে যাইতে
যাইতে সমুদ্রের কাছে
গেলেন। আরব সাগরের পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন।
ইতিমধ্যে ফেরাউন বাহিনী টের পেয়ে পিছন
থেকে তারাও রাওনা করল। রাওনা করতে করতে
দুই দল এমন পর্যায়ে পৌছলো। একদল আরেকদলকে
দেখে। কি বিষয়টা কেমন? ওই যে দেখা যায়।
বলি না আমরা? ওই যে দেখা যায় এরকম বলি না
এরকম দেখতেছে মানে মুসা নবীর বাহিনী
ফেরাউন বাহিনীকে দেখতেছে সামনে আরব সাগর
পিছনে শত্রু মাঝখানে মুসলমানরা সামনেও
বিপদ পিছনেও বিপদ মুসা নবীর বাহিনী
বললেনমাজ দুই দল যখন দুই দলকে দেখতে
লাগল মুসা
[মিউজিক]
মুসা নবীর অনুসারীরা বললেন মুসা আমরা ধরা
খেয়ে গেলাম। মুসা নবী বললেন কাল্লা কষনো
না। আমার সাথে আমার রব আছেন তিনি আমাকে
রাস্তা
দেখাবেন। আল্লাহ তালা
বললেন আমি মুসার প্রতি ওহী পাঠাইলাম। আপনি
লাঠি দিয়ে সমুদ্রে আঘাত করেন। মুসা নবী
সমুদ্রে আঘাত করলেন। 12 টা শুকনা রাস্তা
আল্লাহ তৈরি করে দিলেন।
বনী ইসরাইলের 12টা গোত্র শুকনা রাস্তার
উপর উঠে রাস্তা পাড়ি দিতে লাগলেন।
ইতিমধ্যে ফেরাউন বাহিনী রাস্তার কাছে চলে
আসছে। তাফসীরের কিতাবে তারিখের কিতাবে
আসছে। ফেরাউন বাহিনী এসে দেখে সামনে একজন
স্বাগত জানাইতেছে আসেন আসেন তাড়াতাড়ি।
আর পিছনে একজন বলতেছে হা কেউ যেন বাকি না
থাকে। একজন সামনে একজন পিছনে। তাফসীর এবং
তারিখের কিতাব মিলাইলে বুঝা যায় এই দুইজন
ছিল আল্লাহর ফেরেশতা।
ফেরাউন শুকনা রাস্তার কাছে গিয়ে উদ্বত
আচরণ করল। ফেরাউন তার বাহিনীকে বলতেছে কি
বুঝলা? এতদিন মাটির উপর আমার ক্ষমতা
চলেছে। জমিনের উপর আমি রব ছিলাম। এখন দেখ
নদীর উপরেও আমি
রব। নদীর উপরেও আমাকে স্বাগত জানানোর জন্য
রাস্তা শুধু স্বাগত দেখো একজন স্বাগত
জানাইতেছে জি জি আসেন সবাই রাস্তার উপরে
উঠছে তারা রাস্তার উপরে উঠতেছে ইতিমধ্যে
মুসা নবীর বাহিনীকে আল্লাহ রাস্তা পার করে
ওপারে নিয়ে
গেছে পিছনে একজন আছে উনি বলতেছে যান যান
একজনও যেন বাকি না থাকেন সব গিয়ে উঠেন
রাস্তায়
উঠেন আল্লাহ তালা বলেন
[সশব্দ হাসি]
[মিউজিক]
বাহফজাইনাকলাফনা এক পারা সাত নম্বর পৃষ্ঠা
শুরুতে আছে স্মরণ করুন সময়কে যখন আমি
সমুদ্রকে ভাগ করে 12টা রাস্তা তৈরি করে বন
ইসরাইল তোমাদেরকে আমি মুক্ত করে ওপারে
নিয়ে গেলাম আর তোমাদেরকে বললাম পিছনে
ফিরে
তোমরা পিছনে ফিরে তাকিয়ে দেখতেছিলা আমি
কিভাবে ফেরাউন বাহিনীকে ডুবায়া মারি।
বিষয়টা তোমরা তাকায়া তাকায়া
দেখতেছিলা। সমুদ্রের মাঝে রাস্তার উপরে
যাইতে যাইতে আল্লাহ তাআলা এবার রাস্তাকে
হুকুম করলেন। আবার পানি হয়ে যাও। রাস্তা
পানি হয়ে গেল। ফেরাউন বাহিনী ডুবে মারা
গেল। মিশর থেকে মুসা নবী আর তার বাহিনী
তথা বনী ইসরাইল চলে গেল ওপারে।
ওইপারে যাওয়ার পর যে এলাকায় উঠলো এলাকাটার
নাম সিনাই উপত্যকা বলেন কি
নাম এই সিনি
সুবহানাল্লাহ সেখানে
গেলেন সেখানে যাওয়ার পর মুসা আলাইহি
সালাতু সালাম বন ইসরাইলকে বললেন এই শোন
একটা কাজ করি চল কি কাজ আমাদের কাছ থেকে
বাইতুল মুকাদ্দাস বেশি দূরে না একদম কাছেই
বাইতুল মুকাদ্দাস। বাইতুল মুকাদ্দাসটা
মূর্তিপূজারীদের দখলে। চল জিহাদের মাধ্যমে
আল্লাহর ঘরটা তাদের কাছ থেকে আমরা উদ্ধার
করি।
বন ইসরাইল রাজি
হইছে। রাজি হওয়ার পর মুসা নবী তাদেরকে
নিয়ে চলে গেলেন। চলে যাওয়ার পর মূল শহরে
প্রবেশ করার আগে প্রাচীর আছে। দেয়াল আছে।
দেয়ালের কাছে মুসা নবী আর তার বাহিনী
গিয়ে উপস্থিত। দেয়াল টপকাইলেই আলকুদ
শহরে প্রবেশ করবে। ফিলিস্তিন প্রবেশ করবে।
মুসা নবী দেয়ালের কাছে গিয়ে
বললেন সূরা মায়েদা 27 নম্বর আয়াত। হে
আমার সম্প্রদায় তোমরা প্রবেশ করো এমন
এলাকায় যেই এলাকাটা পবিত্র আল্লাহ
তোমাদের জন্য এটা লিপিবদ্ধ করে দিয়েছেন।
প্রবেশ
করো। ওয়ালাতারলা
আল্লাহ তোমাদের জন্য এলাকাটা নির্ধারণ করে
দিয়েছেন। তোমরা পিছনে ফিরে যেও
[মিউজিক]
না। তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাবা। বন
ইসরাইল জবাব দিল কুইয়া
[মিউজিক]
মুসাফি মুসা আমরা যাব না। একটু আগে না
বলছে যাবে। এখন বলতেছে আমরা যাব না। কেন?
বাইতুল মুকাদ্দাস দখল করে আছে এক
প্রতাপশালী জাতি। আমরা তাদের কাছে যাবো
না। তারা থাকা পর্যন্ত সেখানে প্রবেশ করবো
না। এই প্রতাপশালী জাতি সেখান থেকে বের না
হওয়া পর্যন্ত আমরা প্রবেশ করবো
[মিউজিক]
না। তারা যদি বের হয় তাহলে আমরা বাইতুল
মুকাদ্দাস এলাকায় প্রবেশ করব। মুসা নবী
অনেক বুঝাইতেছে বুঝ মানে না সর্বশেষ তারা
যা বলল শুনলে আপনাদের দেখেন মেজাজও খারাপ
হইতে পারে কি
বলে মুসা আমরা সেখানে যাব না
মাদামুফহা যতক্ষণ প্রতাপশালী জাতি সেখানে
আছে সেখানে আমরা যাব নাব্বুকা
মুসা তোমার যদি এতই মন চায় তুমি আর তোমার
রব
যাও। তোমরা দুইজনে লড়াই
করো। আমরা এখানে বসে আছি। তুমি আর তোমার
রব গিয়ে লড়াই করে তাদেরকে হারিয়ে
দেওয়ার পর আমাদেরকে বলবা তারপর আমরা
যাব। এটা কারা জবাব দিল? মনির। প্রিয়
ভাইয়েরা আপনারা কি আমার কথা বুঝতেছেন
সবাই?
মুসা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম তাদেরকে
বুঝাইলেন তারা যায় না। আল্লাহ তাদের উপরে
রাগ
করে গজব স্বরূপ আজাব স্বরূপ তাদেরকে ওই
এলাকায় উদভ্রান্তের মত ঘুরাইতে লাগলেন সে
এলাকার নাম তলেন কি নাম? দীর্ঘকার হত
দীর্ঘকার হ। কি
নাম? এই নামক এলাকায় তাদেরকে ঘুরাইতে
লাগলেন। এরা ঘুরতে ঘুরতে বাহিরে যাইতে
চায়। গিয়ে দেখে আবার ওখানে আছে। মনে করেন
এই মাঠে আপনারা বারবার বের হইতে চান।
বাহিরে দেখেন মাঠে আছেন। মানে ঘুরতে ঘুরতে
যাইতেছেন। ব্যাস আলহামদুলিল্লাহ মাঠের
বাহিরে আইসা পড়ছি। পরে একটু পরে তাকায়া
দেখেন না আমি তো আগের জায়গা। আল্লাহ
এদেরকে এভাবে ঘুরাইতে
লাগে। সেখানেই মুসা নবীর ইন্তেকাল
হয়। মুসা নবী ইন্তেকাল করার পর মুসা নবীর
খাদেমকে আল্লাহ নবী বানায়া দিছে।
সুবহানাল্লাহ। নাম ইউশা। কি নাম?
ইউসা আলাইহিস সালাতু ওস সালাম নবী হওয়ার
পর বনী ইসরাইলকে বুঝাইলেন চল মুসা নবী যে
কাজটা সমাপ্ত করতে পারে নাই আমি তোমাদেরকে
নিয়ে সেটা সমাপ্ত করব চল জালেমদের
বিরুদ্ধে পত্তলিকদের বিরুদ্ধে
মূর্তিপূজারীদের বিরুদ্ধে লড়াই করে
আল্লাহর ঘর বাইতুল মুকাদ্দাসটা উদ্ধার করি
চল বন ইসরাইলের একদল মুজাহিদ রাজি হয়ে
গেছে বলেন আলহামদুলিল্লাহ
ইউসা নবী তাদেরকে নিয়ে গিয়ে
মূর্তিপূজারী পৌত্তলিকদের বিরুদ্ধে লড়াই
করে জিহাদের মাধ্যমে আল্লাহর ঘর বাইতুল
মুকাদ্দাস আর আশেপাশের শহরটা উদ্ধার
করলেন। আল্লাহ তাআলা ইউসা নবীর হাতে
বাইতুল মুকাদ্দাস বিজয় দান করলেন।
ইউসা নবী বাইতুল মুকাদ্দাস এলাকায় থাকতে
লাগলেন। একদিক দিয়ে তিনি নবুয়তের
দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদিক দিয়ে
বিভিন্ন এলাকার সুন্দরভাবে পরিচালনা করার
জন্য তিনি একেক এলাকায় বিচারক নিয়োগ করে
দিলেন
বিচারক যেমন চেয়ারম্যান মেম্বার কমিশনার
একটা কাজ আছে না তো উনি কাজের নিয়োগ
করলেন কাদেরকে বিচারক যে বিচারকের কাজ
আমরা জানি বিচার করা কিন্তু তিনি বললেন
তুমি বিচারক হলেও তোমার কাজ বিচার করা
সালিশ করা দরবার করা এলাকার সব কাজ তোমারে
করতে হবে এটা হলো বিচারকের কাজ এই
জায়গায় নোট করার মত একটা কথা এজন্য ওই
যুগটাকে বলা হয় বিচারকদের যুগ। কি বলা হয়?
বিচারকদের যুগ। মানে বিচারকরা দেশ চালায়।
এই উপদেষ্টাদের যুগ। এরকম হল বিচারকদের
যুগ। এখন এই বিচারকদের শাসন ব্যবস্থা
চলতেছে। ইউসা আলাইহিস সালাতুওস সালাম
ইন্তেকাল করলেন। বিচারকদের মাঝে একজন
বিচারকের নাম আপনারা মনে রাখতে হবে। তাহলে
আলোচনাটা বুঝা সহজ হবে।
বলেনশামু। কি নাম?
শাম্মিল ইউসা নবী বিদায় নিলেন। বাইতুল
মুকাদ্দাসের আশেপাশে যারা তারা বিষয়টা
মেনে নিতে পারে না যে বিচারকরা এলাকা
চালাবে, দেশ চালাবে এটা কোন কথা? তারা
ক্ষণ ক্ষণ বাইতুল মুকাদ্দাসের উপর হামলা
চালায়। হামলা চালাইতে চালাইতে তারা
বাইতুল মুকাদ্দাস আবার মুসলমানদের কাছ
থেকে ছিনিয়ে দখল করে নিয়ে যায়। আল্লাহ
বিশ্বাসী যারা তাদের কাছ থেকে বাইতুল
মুকাদ্দাস চলে যায়। আবার পত্তলিক তথা
মূর্তি পূজারীদের কাছে বাইতুল মুকাদ্দাস
চলে
গেছে। চলে যাওয়ার পর
বিচারকরা অন্যান্য এলাকায় চলে গেলেন।
বিচারকদের মাঝে একজনের নাম মনে রাখতে
বলছিলাম। কি নাম? এই শাম্বিল নামক
বিচারককে আল্লাহর নবী বানায়া দিলেন। তিনি
হলেন শাম্বিল আলাইহিস সালাতু ওয়াস
সালাম। শাম্বিল আলাইহিস সালাতু আয়াস
সালাম তার জাতিকে বললেন, চলো আমরা আবার
লড়াই করে বাইতুল মুকাদ্দাস উদ্ধার করি।
বনী ইসরাইল বলল
না এক শর্তে লড়াই করব কি তুমি যদি আমাদের
জন্য একজন বাদশা নিয়োগ করে দিতে পারো সেই
বাদশা আমাদেরকে নেতৃত্ব দিবে জিহাদের
ময়দানেও সে আমাদের আমির হবে প্রধান
সেনাপতি হবে তাহলে আমরা লড়াই
করবশামবিল নবী আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন
আল্লাহ একজন বাদশা নিয়োগ করে দেন যেই
বাদশার অধীনে থেকে তারা লড়াই করবে আল্লাহ
তাআলা নবীর দোয়া কবুল করে একজন বাদশা
নিয়োগ করে দিলেন ওই বাদশার নাম তলুত বলেন
কি নাম
তলুত ত আকার লয় রস্যুকার ত আকার লয় রসুকার
তলুত কি নামত আলিফ লাম ওয়াও তা
তলুত তলুতকে বাদশা নিয়োগ করার পর বন
ইসরাইলকে সমল নবী বললেন আল্লাহ তাআলা
তোমাদের জন্যই তলুতকে বাদশা বানিয়েছে বন
ইসরাইল বলল তলুত আবার
কে তোমরা না বললা একজন বাদশা বানাইতে
বাচ্চা বাদশা বানাইতে বলছি বলে তুবা যারে
মন চায় তারে বানাইলে হবে নাকি
কেননা সে আমাদের উপর কিভাবে রাজত্ব
করবে আমরা রাজত্বের বেশি হকদার রাজা বাদশা
বানাইলে আমাদের কাউরে বানাইতো কারে না
কারে বাদশা বানায় দিলে হবে নাকি আর তার তো
এত টাকা পয়সাও নাই যে সে বাচ্চা হবে এখান
থেকে বুঝা যায় ওই যুগের মানুষের মাথায় এটা
ছিল যে নেতা হইতে গেলে টাকা লাগে। যা
বর্তমান যুগেরও গোবর মার্কা কিছু
মস্তিষ্কের মানুষের এটা চিন্তাধারা।
শামমিল নবী বললেন তলুতের যদিও টাকা পয়সা
নাই। তবে দুইটা যোগ্যতা
আছে।
ইন্নাল্লাহ আলাইকুম। আল্লাহ তালুদকে
তোমাদের উপর নির্বাচন
করেছেন। আল্লাহ তাকে দুইটা জিনিস প্রচুর
দান করেছেন। একটা হলো এলেম। প্রচুর বিদ্যা
দান করেছেন। বুঝা যায় নেতৃত্বের বড় একটা
যোগ্যতার নাম হল বিদ্যা থাকা। আর কোরআন
হাদিসের বিদ্যা মুসলমানদের মধ্যে থাকলে ওই
মুসলমান নেতা যার সিনায় কোরআন হাদিস থাকবে
সে অন্তত রডের পরিবর্তে বাস দিবে না।
এটা
রডের জায়গায় কি দিবে? রডই দিবে। কি দিবে
না? এটা এমনি বললাম আর
কি। এক নাম্বার তাকে আল্লাহ প্রচুর বিদ্যা
দান
করছে। দুই নাম্বার ওয়ালজিসমি তার দৈহিক
শক্তিও প্রচুর। জিহাদের ময়দানে কি দরকার?
শক্তি। তার শক্তি আছে। অতএব তোমরা তাকে
মেনে নাও। তখন তারা বলতেছে আচ্ছা ঠিক আছে
বুঝলাম। সে যে আমাদের বাদশা কোন প্রমাণ
আছে নি? কয় হ্যা কি প্রমাণ? একটু আমার
সাথে আগে বলেন বলেন তাবুত
বাদশার নাম তলুত আর এখন নতুন একটা শব্দ
শিখাইতেছি তাবুত বলেন তো কি
লয় সুকারের জায়গায় বয়স সুকার দেন বাদশার
নাম তলুত আর একটা বাক্স এটার নাম
তাবুত তাহলে বাদশার নাম তালুত আর বাক্সের
নাম তা বন ইসরাইলের একটা বাক্স ছিল
বাক্সটার নাম হল তাবুত এই বাক্সের ভিতরে
আল্লাহ প্রদত অনেক নেয়ামত ছিল। মুসা আর
হারুন নবীর স্মৃতি বিজড়িত অনেক কিছু ছিল
এ বাক্সের মধ্যে। বনী ইসরাইল জিহাদের
ময়দানে এই বাক্সটা সামনে রাখলে এটার
কারণে তারা অনেক বরকত লাভ করতে বলে তাদের
একটা বিশ্বাস ছিল। মনে আছেনি? বিচারকদের
যুগের সময় বাইতুল মুকাদ্দাস হামলা
চালায়া বিচারকদের কাছ থেকে
মূর্তিপূজারীরা বায়তুল মুকাদ্দাস যখন
ছিনিয়ে নেয়, তখন বনি ইসরাইলের ওই বরকতি
বাক্সটাও ছিনিয়ে নিয়েছে একটা
সম্প্রদায়। তাদের নাম আসদুদি সম্প্রদায়।
যাই হোক একটা সম্প্রদায় আর কি হ্যা এই যে
বাদশাটা ছিনায়া নিছে এটার নাম কি?
তাবুত। এখন তালুদ যে
বাদশাল নবীকে বললেন তালুদ যে আমাদের বাদশা
এটার প্রমাণ কি? তখনশাল নবী বললেন তোমাদের
হারিয়ে যাওয়া বাক্সটা আল্লাহ তাআলা
ফেরেশতাদের মাধ্যমে আবার তোমাদের কাছে
ফিরিয়ে দি।
এটা আল্লাহ কোরআনে বলছে। দুই পারা 20
নম্বর পৃষ্ঠ শুরুতে আছে।
তালুদ যে আল্লাহর বাদশা এটার প্রমাণ হলো
তোমাদের কাছে তোমাদের হারিয়ে যাওয়া
বাক্স তথা তাবুতটা ফিরে আসবে তাহলে দুইটা
জিনিস পাইলাম বাদশার নাম তলুত বাক্সের নাম
তাবুত বয়সকার আর লসুকার লসকার হইলে বাদশা
আর বয়সকার হলে
বাক্স মনে
থাকবেনি এবার তালুদ লড়াই করতে যাবেন
বাইতুল মকাদ উদ্ধার করবে যার কাছ থেকে
উদ্ধার করবে তার নামও
জালুত নাম কিতা তলুত তাবুত জালুত বাদশার
নাম বাক্সের নাম তাবুত আর জালেমের নাম হল
জালুত কি নাম মনে থাকবেনি আচ্ছা তলুত
তাবুত
জালুত বাদশা তালুত লড়াই করার জন্য রওনা
করলেন বিশাল বড় মুজাহিদ বাহিনী নিয়ে
রওনা করলেন রওনা করার সময় বাদশা তালুত
মুজাহিদদেরকে বললেন আচ্ছা জিহাদের ময়দানে
গিয়ে তোমরা আমার কথা মানবা তো সবাই বলে
মানবো কয় একটা পরীক্ষা হয়ে যাক কি
পরীক্ষা যাওয়ার সময় একটা নদী পড়বে এই
নদীর পানি কেউ পান করবা না যারা পান করবা
তারা মুজাহিদ বাহিনী থেকে ছিটকে
পড়বা এই কথা বলার পর সবাই রাওনা করল
রাওনা করার
সময় তালুদ বাহিনীর যে মুজাহিদ বাহিনী ছিল
বেশিরভাগ
বেশিরভাগ পানি পান করে ফেলল ডকডক করে
ইল্লালামিন কিছু মানুষ পানি পান করে নাই
তাহলে বিশাল বড় বাহিনী থেকে বিশাল অংশ
ছিটকে গেল সামান্য একটা মুজাহিদের বাহিনী
টিকে গেল এখন বুঝা গেল প্রথমে ছিল বড়
বাহিনী এখন ছোট্ট একটা বাহিনী নিয়ে বাদশা
তলুত জালেম জালুতের বিরুদ্ধে লড়াই করবে
যেই বাহিনীটা নিয়ে বাহিনীটা একদম ছোট্ট
গেলেন জালুতের সাথে লড়াই কোন কোন তাফসীর
লেখছেন তালুতের মুজাহিদ বাহিনীর সংখ্যা
ছিল 313 সুবহানাল্লাহ কত বদরে
কত তালুত
গেলেন
আমানুমা তালুত এবং তার সাথে ঈমানদাররা যখন
নদী পাড়ি দিয়ে ওপারে গেলেন যাওয়ার
পর কিছু কিছু মুজাহিদ বলতে লাগল লা
আজকে জালুত বাহিনীর সাথে পারার মত শক্তি
আমাদের নাই। ছোট্ট একটা দল জালুদ ভয়ঙ্কর
এক বাদশা ভয়ঙ্কর এক পালোয়ানের নাম। আর
তার সাথে যারা তারাও সশস্ত্র। এদের সাথে
আমরা ছোট্ট বাহিনী পারবো না। তখন আরেকদল
মুজাহিদ বলল টেনশনের কিছু
[সশব্দ হাসি]
নাই। কত ছোট বাহিনী আল্লাহর হুকুমে বিশাল
বড় বাহিনীকে হারিয়ে দিছে। সুবহানাল্লাহ।
আজকে আমরা যদিও ছোট আল্লাহর যদি সাহায্য
থাকে আমরাই বিশাল বড় জালেম বাহিনীকে
হারিয়ে দিয়ে বাইতুল মুকাদ্দাস আমরা
উদ্ধার করবো।
লড়াইয়ের ময়দানে
গেল। যাওয়ার পর জালুদ বাহিনীর সাথে লড়াই
শুরু।
লড়াইয়ে আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন
অবিশ্বাস্যভাবে মুসলমানদের পক্ষে জয়ের
পাল্লাটা দিয়ে দিলেন।
আল্লাহ বিশ্বাসীদের পক্ষে জয়ের পাল্লা
বেশি। তবে একজনকে হারানো বড় মুশকিল হয়ে
দাঁড়ালো তার নাম জালুত। ওইযে জালুত। এই
পালোয়ানরে হারানোর মত কেউ নাই। খোদ বাদশা
তালুতও তার বিরুদ্ধে রাওনা করার জন্য সাহস
করতেছে না। মনে রাখতে হবে মুজাহিদ
বাহিনীতে দাউদ নবীর দুই ভাই ছিল। কোন নবীর
এইযে নতুন আরেকটা নাম আইসা বলল দাউদ তলুত
তাবুদ জালুদ দাউদ
দাউদ নবীর দুই ভাই ছিল মুজাহিদ বাহিনীতে
দাউদ নবীরা ছিল তিন ভাই দাউদ নবীর বড় দুই
ভাই গেছে জিহাদের ময়দানে ছোট্ট ভাই দাউদ
অসুস্থ বাবার সেবা করার জন্য বাড়িতে রয়ে
গেছে অসুস্থ বাবা দাউদ নবীকে বললেন বাবা
দাউদ জিহাদের ময়দানে গিয়ে দেখতো তোমার
বড় দুই ভাইয়ের কি খবর দাউদ নবী জিহাদের
ময়দানে আসলেন ভাইদের দের খবর নেওয়ার
জন্য। আসার পর দেখে আল্লাহ বিশ্বাসী যারা
তাদের পক্ষেই জয়ের পাল্লা। তবে এখনো
চূড়ান্ত ফলাফল আসতে একটা বাধা। তার নাম
জালুদ। জালুতকে ময়দানে হারাইয়া দিতে
পারলেই মুসলমানদের চূড়ান্ত বিজয় ঘোষণা
হবে। কিন্তু জালুদের সাথে লড়াই করার জন্য
কেউ সাহস করতেছে না।
দাউদ নবীর বয়স তখন 16 বছর। কয় বছর?
দাউদ নবী গেলেন আল্লাহ বিশ্বাসী নিজেদের
ছাউনিতে গেলেন। ছাউনিতে যাওয়ার পর বাদশা
তালুদকে বললেন আচ্ছা ঘটনা কি? আমাদের
পক্ষেই তো জয়ের পাল্লা। তাহলে একজনকে
হারাইলেই তো জয় হয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে
কেউ যাচ্ছেন না কেন? সবাই বলাবলি করতেছে।
বাবা যে পালোয়ান জালুদ ওর সাথে লড়াই
করার সাহস কেউ করতেছে না। খুদ বাদশা তালুত
যাচ্ছে না। দাউদ নবী বললেন কিছু মনে না
করলে আল্লাহর উপর ভরসা করে আমারে পাঠায়া।
সুবহানাল্লাহ।
বয়স কত? 16। 16
বছর। মুজাহিদ বাহিনীর সবাই বলল, না না
বাদশা তালু তো বলল, ছোট্ট মানুষ তুমি কি
যাবা? কয় যেহেতু আপনারা কেউ যাচ্ছেন না,
সেহেতু আমারে পাঠান। হয়তো শহীদ না হয়
গাজী। আর যদি আপনারা যান, যান, না গেলে
আমারে
পাঠান। পরিশেষে দাউদ নবীর পীড়াপিড়িতে তাকে
পাঠাইলো। দাউদ নবী ছোট্ট একটা পাথর নিয়ে
জালুতের সামনে গেছে। জালুত যাও দাউদ নবীকে
দেখে উপহাসের হাসি হাসতেছে। দাউদ নবী
সামনে গিয়ে আল্লাহর নাম নিয়ে পাথরটা
জালুতের মাথা বরাবর মারলে সাথে সাথে ছোট্ট
পাথরের আঘাতে জালুত মাটিতে লুট।
দাউদ নবী গিয়ে জালুদকে দুনিয়া থেকে
বিদায় করে দেয়। আল্লাহ কোরআনে
বলে জালুদকে হত্যা করল দাউদ। 16 বৎসরের
দাউদ পালোয়ান জালুদকে হত্যা করলো। আল্লাহ
বুঝিয়ে দিলেন আমি আল্লাহ যদি মুসলমানকে
সাহায্য করি ছোট্ট বাচ্চার হাতেও
পালোয়ানকে আমি আল্লাহ হারিয়ে দিতে পারি।
সুবহানাল্লাহ।
আবু জাহেলরে সাইজ করছে দুইটা ছোট্ট
বাচ্চা। হতেই পারে না। বদরের একটা আলোচনা
আছে আমার। শুনে নিবেন ইনশাআল্লাহ। দেখবেন
ওখানে লম্বা হিস্টরি।
তো জালুতকে হত্যা করার পর আস্তে আস্তে
দাউদ নবী পরিণত বয়সে উপনীত হলেন। আল্লাহ
তাআলা দাউদ নবীকে একই সাথে নবুয়ত দান
করলেন আবার রাজত্বও দান করলেন।
মনে রাখতে হবে দাউদ নবী ওই নবী যাকে
আল্লাহ একসাথে নবুয়তও দান করেছেন আবার
রাজত্ব দান করেছেন। দাউদ নবী ফিলিস্তিনের
শাসক হলেন।
দাউদ নবী বাইতুল মুকাদ্দাস উদ্ধার করলেন।
আর বনী ইসরাইলকে নিয়ে ফিলিস্তিন প্রবেশ
করলেন।
দাউদ নবী ফিলিস্তিনের 74% অঞ্চল জুড়ে
সাম্রাজ্য গড়ে তুললেন। কয় পার্সেন্ট?
74% অঞ্চল। এই সর্বপ্রথম বনী ইসরাইলরা
বিশাল বড় এলাকা জুড়ে সাম্রাজ্য গড়ে
তুলল। আচ্ছা বলেন তো ইতিহাস যে এতক্ষণ
বললাম মাত্র বনী ইসরাইলের মোটামুটি একটা
অবস্থান তৈরি হলো কোথায়? ফিলিস্তিনে। অথচ
এর আগে কতগুলা জাতির কথা বললাম। কেনানী
হেক্সোস আমরিয় ফিনিশিয়ান ব্লেস্ট
ইত্যাদি অনেক নাম বললাম ঠিক না ইহুদিরা
বর্তমানে দাবি করে ফিলিস্তিন আমাদের এখানে
আমাদের আদিনিবাস এটা শুধু তাদের দাবি তবে
দলিল নাই কোন প্রমাণ দিতে পারে না
বাস্তবতা হল এখানে বনী ইসরাইল বা
ইয়াহুদিদের আদিনিবাস না এখানে আদিনিবাস
ছিল কেনানীদের এটা তাদের একটা মিথ্যাচার
ইয়াহুদিরা বর্তমানে এই মিথ্যা কথাটা বইলা
ফিলিস্তিন দখল করতেছে এটা তাদের আদিনিবাস
না এটা একটা মিথ্যা
যাই হোক দাউদ নবী ফিলিস্তিন শাসন করলেন 40
বছর। সুবহানাল্লাহ।
কয় বছর? দাউদ নবী দুনিয়া থেকে বিদায়
নিলেন। আল্লাহ তাআলা সুলাইমান নবীকে নবুয়ত
দান করলেন।
দাউদ নবীর ছেলে সুলাইমান নবী ও ফিলিস্তিন
শাসন করলেন 40। বাবা আর ছেলে 40 দুগুনে কত
হয়? পারলে একটু মনে রাখবেন। বলেন আমার
সাথে। বন ইসরাইলের
ফিলিস্তিনে
ঈমানি শাসন। 80 বছর। এই 80 বছর ফিলিস্তিনে
বনী ইসরাইলের ঈমানি শাসন। যে 80 বছরের 40
হলো দাউদ নবীর 40 হল
সুলাইমান। সুলাইমান নবী 40 বছর ফিলিস্তিন
থাকা অবস্থায় বাইতুল মুকাদ্দাসটা আবার
পুনর্নির্মাণ করেন। নাসা হাদিস 692 নম্বর
হাদিস। সুলাইমান নবী যখন বাইতুল মুকাদ্দাস
নির্মাণ করার কাজ শেষ করেন, আল্লাহর কাছে
তিনটা দোয়া করছেন। তিনটা জিনিস চাইছেন। এক
নাম্বার
আল্লাহ আমি যে বিচার করব আমার বিচারটা যেন
আপনার বিচারের মত হয়। অর্থাৎ আপনার
বিচারে যেন কোন ভুল হয় না। আমার বিচারেও
যেন ভুল না হয়। মাবুদ এই যোগ্যতা আপনার
কাছে
চাই। দুই
নাম্বার আল্লাহ আমারে এমন একটা রাজত্ব
দিবেন যে রাজত্ব আমার পরে দুনিয়ার আর
কাউকে দিবেন না। আপনি কয়টা হল? তিন
নাম্বার সুলাইমান নবী বললেন আল্লাহ আমি
যেই ঘরটা পুনর্নির্মাণ করলাম
এই মসজিদে কোন মুসলমান যদি নামাজ পড়ার
নিয়তে আসে
আল্লাহ নামাজ পড়ার পর যেন মা জন্ম দিলে
যেমন নিষ্পাপ হয়ে যায় ওই ব্যক্তিও যেন
এমন নিষ্পাপ হয়ে যায়
নবীজি বলেন সুলাইমান নবীর প্রথম দুইটা
দোয়া আল্লাহ তার জীবনদশায় কবুল করছে
সুলাইমান নবী বিচার করলে কোন ভুল হইতো না
আর সুলাইমান নবীর মত রাজত্ব তারপরে আর
আল্লাহ কাউকে দেন বাতাসের কথা বুঝতেন,
পিপড়ার কথা বুঝতেন, জিনের কথা সবকিছু
বুঝতেন। সূরা নামলে লম্বা আলোচনা
আছে। সুলাইমান আলাইহিস সালাতুওস সালাম 40।
দাউদ নবী 40। কত হল? আমি আপনাদেরকে একটা
ঘোষণা শিখাইছি। বন ইসরাইলের ঈমানি শাসন কয়
বছর? ফিলিস্তিনে?
40 কার? দাউদ নবী। 40 কার? এবার আমার সাথে
বলেন বলেন বনী ইসরাইলের?
ফিলিস্তিনে।
মোট শাসন শাসন 418 বছর 418 বছর ঈমানি শাসন
ঈমানি শাসন 80 বছর 80 বছর শিরকের শাসন
শিরকের শাসন 300
38 বছর কত
বছর কত 338 আর 80 কত হয়
48 338 আর 80 কত হয় 48 আমার তো এর মনে হয়
আপনারা হিসাব করে দেখেন এ বন ইসরাইলের
ফিলিস্তিনের শাসন হল মোট 418 এর মধ্যে
ঈমানি শাসন 80 বছর। তো 80 বছর ঈমানি শাসন
হলে 418 হইতে আর লাগে কত? 338। এই 338 বছর
হল সব শিরকের শাসন। অহংকারের শাসন। হিংসা,
বিদ্বেষ, পাপাচার, লুটতরাজ, জুলুম,
নির্যাতনের শাসন হল 338
বছর। যাই হোক, দাউদ নবী সুলাইমান নবীর
ঈমানী শাসন চলে যাওয়ার পর সুলাইমান নবী
বিদায় নিলেন। বিদায় নেওয়ার পর বনী
ইসরাইলের গ্রুপ হল 12টা। এই 12 গ্রুপের
মধ্যে 10 গ্রুপ হয়ে একটা দল হলো আর দুই
গ্রুপ হয়ে একটা দল হলো। খুব বুঝবেন এলাকায়
উত্তর দক্ষিণ কোনটা এখানে উত্তর
কোনটা? এটা উত্তর দেখেন হ্যা উত্তর আর
দক্ষিণ। খালি একটু মনে রাখেন। 12 দলের
মধ্যে 10 দল মিলে কয় দল হল? একদল। তারা
চলে গেল ফিলিস্তিনের উত্তরে। দুই দল মিলে
হল আরেক দল। তারা গেল ফিলিস্তিনের
দক্ষিণে। 12 দলের মধ্যে 10 দল মিলে হল
একদল। আর দুই দল মিলে হলো আরেক দল। 10 দল
মিলে যেই দলটা হলো তারা গেল ফিলিস্তিনের
উত্তরে উত্তরে গিয়ে একটা সাম্রাজ্য গড়ে
তুলল। এটার নাম ইসরাইলি সাম্রাজ্য। কি
নাম? দক্ষিণে যেই দুই দল মিলে একটা দল হল
তারা যে ফিলিস্তিনের দক্ষিণাঞ্চল শাসন
করতে শুরু করল। তাদের সাম্রাজ্যের নাম
ইয়াহুজা সাম্রাজ্য। কি নাম? তাহলে উত্তর
ইসরাইলি। দক্ষিণ ইয়াহুজা। 10 দল মিলে একটা
দল তারা গেল উত্তরে। দুই দল মিলে একদল
তারা গেল দক্ষিণে। 10 দল মিলে যেই দল
উত্তরে তারা সাম্রাজ্য গড়ে তুলল নাম
ইসরাইলি সাম্রাজ্য। দক্ষিণে যারা
সাম্রাজ্য গড়ে তুলল এটার নাম ইয়াহুজা
সাম্রাজ্য। চলতে লাগলো
শাসন। ইসরাইলি সাম্রাজ্য তারা প্রায় 200
বছরের বেশি ফিলিস্তিন শাসন করল। কয় বছর?
200
বছর। ইসরাইলি সাম্রাজ্য খতম করল কারা?
ইরাকের একটা জাতি আছে নাম এসিরিয়ান। কি
নাম
ভাই? এই এসিরিয়ানরা আইসা ইসরাইলি
সাম্রাজ্য যারা তাদেরকে তসনস করে দিল।
পুরা পৃথিবী থেকে আউট করে দিল।
ফিলিস্তিনের উত্তরাঞ্চলের ইসরাইলি
সাম্রাজ্যটা তারা খতম করে দিল। শেষ হয়ে
গেল ইসরাইলি সাম্রাজ্য। রয়ে গেল ইয়াহুজা
সাম্রাজ্য
দক্ষিণাঞ্চলের।
ইরাকের
বাদশা বখতে নসর। এই বখতে নসর কি করল?
ইয়াহুজা সাম্রাজ্যকে তসনস করে দিয়ে বাইতুল
মুকাদ্দাসটা বাদশা বুখতে নসর ধ্বংস করে
দিল। বলেন
নাউজুবিল্লাহ। তাহলে উত্তরাঞ্চলেও বনী
ইসরাইলের সাম্রাজ্য শেষ। দক্ষিণাঞ্চলেও
সাম্রাজ্য শেষ। এর মাঝে একটা অঘটন করল।
বখতে নসর বাইতুল মুকাদ্দাস ধ্বংস করে
দিল। এইভাবে চলতে লাগল।
ইয়াহুজা সাম্রাজ্য আর ইসরাইলি সাম্রাজ্য
তথা বনী ইসরাইলের সাম্রাজ্যের পতনের পর
ফিলিস্তিনে নতুন এক সাম্রাজ্যের আবির্ভাব
ঘটলো। তাদের নাম বেবিলন সাম্রাজ্য। কি
নাম?
তারা 47 বছর ফিলিস্তিন শাসন করল। বেবিলন
সাম্রাজ্যের পতন ঘটাইল যারা তাদের নাম
পারস্য। বলেন কি? পারসকরা বেবিলন
সাম্রাজ্যের পতন ঘটাইয়া ফিলিস্তিন দখল করল
পারসকরা।
পারসকরা ফিলিস্তিন দখল করার পর লম্বা সময়
তারা ফিলিস্তিন শাসন করল। পারসিকদেরকে
ফিলিস্তিন থেকে পতন ঘটাইলো। রোমানদের এক
নেতা। এই নেতার নাম হল আলেকজান্ডার।
রোমানদের এক বিরাট সেনাপতি তার নাম
আলেকজান্ডার। কি নাম? এটা আপনারা পাবেন
ইতিহাসে। এই আলেকজান্ডার পারসিকদের পতন
ঘটাইয়া রোমানরা ফিলিস্তিনে সাম্রাজ্য গড়ে
তুলল। 300 বছরের বেশি রোমানরা ফিলিস্তিন
শাসন করল। কয়শ বছরের বেশি? 300 বছর। 300
বছর। এই 300 বছরের বেশি সাম্রাজ্য করতে
করতে তারা ঘটনা ঘটাইতে ঘটাইতে আল্লাহ পাক
রাব্বুল আলামীন দুনিয়াতে একজন নবী পাঠায়া
দিলেন। তার নাম ঈসা আলাইহিস সালাতু ওয়াস
সালাম। কি নাম?
ঈসা আলাইহিস সালাম আসার পরেই শুরু হয়ে গেল
খ্রিষ্ট গণনা। এখন যেটা বলি আমরা 1900 এত,
2000 এত, 2000 এই ঈসা নবী থেকে গণনা। এটা
ইংরেজি গণনা।
ঈসা নবী আগমন করার পর তাওহীদের দাওয়াত
দিল।
বেশিরভাগ মানুষ তাওহীদের দাওয়াত গ্রহণ
করল না। ইয়াহুদিদের নির্যাতনে জ্বালায়
ঈসা নবীকে আল্লাহ উঠাইয়া নিলেন আসমানে।
এখন ঈসা নবী দুই নাম্বার আসমানে জীবিত
অবস্থায় আছে। কেয়ামতের আগে ঈসা নবী
আসবে। এটা কেয়ামতের বড় আলামতের একটা।
ঈসা নবী চলে গেলেন। রোমানরা ফিলিস্তিন
শাসন করে এইভাবে চলতে চলতে
ঈসা নবী বিদায় নেওয়ার পর কিছুকাল পর
রোমানদের মধ্যে বিশাল একটা জাতি খ্রিস্টান
হয়ে যায়। তবে খ্রিস্টান হওয়ার পর ঈসা
নবী যে সত্য ধর্ম দুনিয়াতে রেখে
গিয়েছিলেন এই ধর্মটা তারা বিকৃত করে ফেলে
পত্তলিক ধর্ম এটার মধ্যে ঢুকায়া দেয়।
তাদের অনেকের বিশ্বাস তৈরি হলো ঈসা নবীকে
হত্যা করা হয়েছে সুলিবিদ্ধ করে। পড়ি
নাউজুবিল্লাহ।
আর আমাদের বিশ্বাস ঈসা নবী কোথায় জীবিত?
আসমানে। আর তাদের বিশ্বাস ঈসা নবীকে হত্যা
করা হয়েছে। আরেকদলের বিশ্বাস নবীর যেহেতু
বাবা নাই সুতরাং ঈসা নবীর বাবা আল্লাহ
নাউজুবিল্লাহ আরেকদলের বিশ্বাস আরেক দলের
বিশ্বাস হল ঈসা নবী তিন খোদার এক
খোদা নবী তিন
খোদালা আল্লাহ তিন খোদার এক খোদা মারিয়াম
তিন খোদার আরেক খোদা ঈসা নবী আর তিন খোদার
আরেক খোদা নাউজুবিল্লাহ আল্লাহ একজন
মারিয়াম একজন ঈসা নবী একজন এরকম একেকজনের
ভয়ঙ্কর বিশ্বাস তো এগুলা মাথায় না
ঈসা নবী চলে গেলেন আসমানে এইভাবে চলতে
চলতে 570 বছর পর্যন্ত চলল। 570 এ আল্লাহ
পাক রাব্বুল আলামীন পৃথিবীর সবচাইতে
শ্রেষ্ঠ মহামানব। আল্লাহর পরে যিনি এই জগত
ওই জগত যত জগত হয় সব জগতে শ্রেষ্ঠ এমন
একজন ব্যক্তিকে পাঠাইলেন আমাদের প্রাণের
নবী দয়াল নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু সাল্লাম। আমাদের নবী
আসলেন। 609 খ্রিস্টাব্দে আল্লাহ নবীজির
নবুয়ত প্রকাশ ঘটাইলেন।
নবীজি সাল্লাল্লাহু আ সাল্লাম মক্কায় 13
বছর নির্যাতনের শিকার হলেন। সাহাবায়ে
কেরামও নির্যাতিত হলেন। চলে গেলেন হিজরত
করে মদিনায়। নবী মদিনায় যাওয়ার পর বললেন
সকশন এই যে আমরা মদিনায় হিজরত করলাম।
এরপরে আরেকটা হিজরত হবে। সাহাবীরা বললেন
হুজুর সেটা আবার কোন হিজরত? নবী বললেন ওই
হিজরতটা হল আমার উম্মত হিজরত করে ইব্রাহিম
নবী হিজরত করে যেখানে গিয়েছেন আমার উম্মত
সেখানে যাবে। তথা ফিলিস্তিনের আশেপাশের
অঞ্চলে আমার উম্মত হিজরত করে যাবে তখন
তারাই হবে পৃথিবীর সবচাইতে শ্রেষ্ঠ।
নবী বলছেন তারা হবে পৃথিবীর সবচেয়ে
শ্রেষ্ঠ। যারা হিজরত করে সে সিরিয়া যাবে
ফিলিস্তিনের আশেপাশে যাবে। তৈয়ার হন
প্রস্তুত হন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম
ফিলিস্তিন নিয়ে খুব
ভাবতেন। ইতিমধ্যে রোমান আর পারস্যদের একটা
লড়াই হলো।
ওই লড়াইয়ের মধ্যে মুসলমানরা চাইতো
রোমানদের যেন বিজয় হয়। এটা মুসলমানরা
চাইতো। কারণ রোমানরা যদিও মুসলমানরা যারা
শিক্ষা দীক্ষায় আগায়া ছিল পারসকরা
শিক্ষাদীক্ষা ছিল না। শুধু অন্ধবিশ্বাস
ছিল। তাই মুসলমানরা রোমানদের পক্ষ অবলম্বন
করেছিল। যে তারা বিজয়ী হোক। ঘটনাচক্রে
রোমানরা হেরে
গেছে। হেরে যাওয়ার পর মুসলমানরা কষ্ট
পাইছে। আল্লাহ সান্তবনা
দিলেন। রোমানরা বিজয় হয়েছে।
অচিরেই রোমানরা আবার বিজয় অর্জন
করবে। কিছুকাল পর রোমানরা বিজয় অর্জন
করছে। বিজয় অর্জন করার পর আমাদের
নবী সুরাবিল ইবনে আমর নামে এক রোমান
গভর্নরের কাছে একটা চিঠি পাঠাইছে ইসলামের
দাওয়াত দিয়ে। সুবহানাল্লাহ। রোমান
গভর্নর সুরাহবিল ইবনে আমর চিঠি পড়ার পর
নবীর চিঠি যে নিয়ে গেছে চিঠি বাহককে
হত্যা
করছে। আমাদের নবী খুব কষ্ট পাইলেন।
রাসূুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম তিনজন
সাহাবীকে সেনাপতি নিযুক্ত করলেন। একজনের
নাম জায়েদ ইবনে হারেসা। আরেকজনের নাম
জাফর ইবনে আব তালেব। আরেকজনের নাম
আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা। এই তিনজনকে
সেনাপতি বানায়া পাঠিয়ে দিলেন মুতার
প্রান্তরে। লড়াই হল। তিনজন সেনাপতি শহীদ
হয়ে গেলেন। খালিদ ইবনে ওয়ালিদের
নেতৃত্বে আল্লাহ মুসলমানদেরকে বিজয় দান
করলেন।
নবীজি সাল্লাল্লাহু সাল্লাম জীবদ্দশায়
আরো চাইতেন ফিলিস্তিন আবার আরেকটা বাহিনী
পাঠাবে নবীজি লড়াই করার জন্য। পাঠাবে
পাঠাবে করেও পাঠাচ্ছে না। ইতিমধ্যে
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম দুনিয়া থেকে বিদায় নিলেন।
দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার আগে এক মাস
আগে নবীজি নিয়ত করেছিলেন তার পালকপুত্র
জায়েদ ওসামা ইবনে জায়েদ। পালকপুত্র
জায়েদ বিন হারেসার সন্তান নাম হলো উসামা
ইবনে জায়েদ মানে নবীর নাতি জায়েদ বিন
হারেসার ছেলে উসামা। তাহলে নবীর নাতি।
পালকপুত্রের ছেলে উসামা। এই ওসামা ইবনে
জায়েদের নেতৃত্বে একটা দল ফিলিস্তিন
পাঠাবে। নবীর নিয়ত ছিল। নবী ইন্তেকাল
করলেন। নবীজি দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার
পর খলিফা হলেন আবু বকর সিদ্দিক
রাদিয়াল্লাহু তাআলা। দুই বছর ছয় মাস
খলিফা ছিলেন। আবু বকর সিদ্দিক খুব চেষ্টা
করতেন যে ফিলিস্তিন একটা বাহিনী পাঠাব।
উনি ইন্তেকালের আগে বিশাল একটা মিটিং
করলেন সাহাবায়ে কেরামের বড় বড় যারা
তাদেরকে নিয়ে। মিটিং এর মধ্যে তিনি
ফিলিস্তিনের যথেষ্ট গুরুত্ব দিলেন। তবে
আবু বকর সিদ্দিক গুরুত্ব দিলেও কোন বাহিনী
তখনো পাঠাননি। চলে গেলেন আবু বকর। আল্লাহ
তাআলা খলিফা হিসেবে মনোনীত করলেন ওমরে
ফারুক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু। ওমর ফারুক
রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু খলিফা হওয়ার পর
ওমর ফারুক আল্লাহর নবীর সেই মনের বাসনা।
আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু তাআলা
আনহুর সেই মনোবাসনা পূরণ করার জন্য আল্লাহ
পাক রাব্বুল
আলামীন ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু তাআলা
আনহুর জামানায় মুসলমানদের একটা বাহিনী
ওমর ফারুক পাঠায়া দিলেন ফিলিস্তিন 613
হিজরীতে আল্লাহ তাআলা ফিলিস্তিনের কিছু
অঞ্চল মুসলমানদের হাতে বিজয় দান
করেছে ওমর
ফারুকের ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু তাআলা
আনহু জামানায় মুসলমানদের বিজয় অর্জন
করার পর
এইভাবে আপনার 14 হিজরী, 15 হিজরী, 16, 17,
18, 19 হিজরী। যাই
হোক মুসলমানদের সিরিয়া অঞ্চলের প্রথম
গভর্নরের নাম মনে রাখবেন আবু উবায়দা
ইবনুল জাররাহ। ফিলিস্তিন সিরিয়ার প্রথম
মুসলমান গভর্নর আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ।
আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ ইন্তেকাল করলেন।
তারপর গভর্নর হলেন মুয়াজ ইবনে জাবাল
রাদিয়াল্লাহু তাআলা। মুয়াজ ইবনে জাবাল
ইন্তেকাল করলেন। তারপর গভর্নর হলেন ইয়াজিদ
ইবনে আব সুফিয়ান রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহ।
তিনিও ইন্তেকাল করলেন। তারপর গভর্নর হলেন
আমিরে মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু তাআলা। 619
হিজরীতে আমিরে মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু
তাআলা আনহুর বীরত্ব গাথায় আল্লাহ পুরা
ফিলিস্তিন মুসলমানদের হাতে দিয়েছে।
এখন ফিলিস্তিন মুসলমানদের হাতে। কত হিজরী?
69।
তো 619 হিজরীতে মুসলমানদের হাতে আসলো
ফিলিস্তিন। 619 হিজরী থেকে এইভাবে
মুসলমানরা ফিলিস্তিন শাসন করতে লাগলো। ওমর
ফারুকের জামানা গেল। ওসমান গনি
রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর জামানা আসলো।
এইভাবে
641 হিজরীর পর পৃথিবীতে কিছু ঘটনা ঘটছে।
ঘটার পর মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু তাআলা
আনহুর তার একক একটা শাসন ক্ষমতা
প্রতিষ্ঠিত হলো। হওয়ার পর মুয়াবিয়া
রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু ফিলিস্তিনকে
যথেষ্ট গুরুত্ব দিতেন। এই শাসন ব্যবস্থাকে
বলা হয় উমাইয়া শাসন। কি বলা হয়?
উমাইয়া
শাসন। তো উমাইয়া শাসন ও এখানে একটা কথা
আপনার মনে রাখতে হবে সেটা হলো আমি বললাম
619 হিজরী। নাউজুবিল্লাহ। 619 না শুধু 19
হিজরী। ওই জায়গায় 600। 600 বলতে হতো
আপনার খ্রিস্টাব্দ। খ্রিস্টাব্দ হলে 600।
এখানে হিজরি হবে আপনার নবীজির পরে 13
হিজরী 14 হিজরী 15 16 17 18 19 তাহলে
আমিরে মুয়াবিয়া নাউজুবিল্লাহ আমি মুখ
দিয়ে বারবার 600 বলছি 600 হবে না শুধু 19
হিজরি কত হিজরী 19 হিজরী হ্যা আমিরে
মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু 41
হিজরীতে উমাইয়া শাসনের প্রতিষ্ঠা শুরু
হলো 41 হিজরী থেকে 132 হিজরী পর্যন্ত
ফিলিস্তিন শাসন করে উমাইয়ারা কত হিজরী
থেকে 41 থেকে 132 হিজরী
132 হিজরীতে উমাইয়া শাসনের পতন ঘটে। এরপর
শাসন ক্ষমতা আসে আব্বাসীয়দের হাতে।
আব্বাসীরা ফিলিস্তিন শাসন করা শুরু করে।
আব্বাসীদের যুগকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
একটা হলো সোনালী যুগ আরেকটা দুর্বলতার
যুগ। সোনালী যুগ হল আব্বাসীরা ওই সোনালী
যুগে ফিলিস্তিনের অনেক উন্নতি সাধন
করেছিল। আব্বাসীরা ফিলিস্তিনকে যথেষ্ট
গুরুত্ব দিত। তবে গুরুত্ব দিলেও উমাইয়াদের
জামানায় যতটা গুরুত্ব ছিল ফিলিস্তিনের
আব্বাসীদের জামানায় ততটা গুরুত্ব থাকলেও
গুরুত্ব দিতে পারে নাই। কেন? উমাইয়াদের
জামানায় মুসলমানদের খেলাফতের রাজধানী ছিল
দামেশকে। আর আব্বাসীয়দের জামানায়
মুসলমানদের খেলাফত ব্যবস্থার রাজধানী
স্থানান্তরিত করে নেওয়া হয় বাগদাদে।
দামেশ্কের কাছ থেকে ফিলিস্তিন কাছে। আর
বাগদাদের কাছ থেকে ফিলিস্তিন দূরে।
স্বাভাবিকভাবে দূরত্বের কারণে দূরত্ব কমে
আসে। কথাটা বুঝেন দামেশ ছিল কাছে গুরুত্ব
ছিল বেশি বাগদাদ দূরে হয়ে যাওয়ার কারণে
গুরুত্ব থাকলেও গুরুত্বটা কমে
গেছে এবার একটু মনে রাখেন আব্বাসীয়দের
দুর্বলতার যুগে 254 হিজরী প্রিয় ভাইয়েরা
কত হিজরী 254 হিজরীতে এক ব্যক্তি তার নাম
আহমদ ইবনে তুলুন তিনি আব্বাসীয়দের
দুর্বলতার যুগে থেকে তিনি সরে গেলেন। সরে
গিয়ে তিনি কি করলেন? তিনি ফিলিস্তিন
উদ্ধার করলেন। উদ্ধার করার পর 264 হিজরীতে
তিনি একটা সাম্রাজ্য গড়ে তুললেন
ফিলিস্তিনে। এটার নাম তুলুন সাম্রাজ্য। কি
সাম্রাজ্য? তুলুন। বলেন কি সাম্রাজ্য?
আবার বলছি। সাম্রাজ্য ছিল আব্বাসীয়দের
হাতে। 254 হিজরীতে আব্বাসীয়দের একজন
গভর্নর নাম আহমদ ইবনে তুলুন। তিনি
ফিলিস্তিন উদ্ধার করে। উদ্ধার করার পর
তিনি নিজেই আব্বাসীয়দের কাছ থেকে দূরে সরে
পড়ে। দূরে সরার পর তিনি একটা সাম্রাজ্য
গড়ে তোলে। এটার নাম হল তুলুন সাম্রাজ্য বা
তুলুন
সাম্রাজ্য। এই তুলুন সাম্রাজ্য তিনি গড়ে
তোলেন 264 হিজরীতে। 264 হিজরী থেকে তুলুন
সাম্রাজ্য ফিলিস্তিনে শাসন করে 57 বছর।
প্রিয় ভাইয়েরা কয় বছর?
তুলুনি সাম্রাজ্যের পতন ঘটে যার হাতে তার
নাম মোহাম্মদ ইবনে তু
ইশিদি তু মোহাম্মদ ইবনে তু হল তরশুকার গ
বর্গীয়জ মোহাম্মদ ইবনে তু এই মোহাম্মদ
ইবনে তুইর হাতে তুলুন সাম্রাজ্যের পতন ঘটে
তখন নতুন সাম্রাজ্য ফিলিস্তিনে শুরু হলো
এটার নাম হল ইশিদি সাম্রাজ্য সহজে বুঝেন
বর্তমান আমাদের দেশে যেমন আওয়ামী লীগ
বিএনপি কথার কথা আছে না এরকম সে এককটা যুগ
এটা আওয়ামী লীগের যুগ এটা বিএনপির এটা
জাতীয় পার্টির এটা অমুকের যুগ এটা অমকের
যুগ বলে না তো তুলুন সাম্রাজ্য এটা পতন
ঘটার পর নতুন সাম্রাজ্য ফিলিস্তিনে আসলো
নাম ইশি ইশিদিরা ফিলিস্তিন শাসন করে আর 30
বছর কয় বছর এখানে মনে রাখবেন তুলুন
সাম্রাজ্যের 57 বছর ছিল উন্নতির যুগ আর
ইশিদ সাম্রাজ্যের 38 বছর এটাকে ভালো যুগ
বলা যায় তবে উন্নতির যুগ বলা যায় না কেন
এই 38 বছররা ফিলিস্তিনকে যথেষ্ট গুরুত্ব
দিত। এমনকি কোন নেতা মারা গেলে বাইতুল
মুকাদ্দাসে আইনা তার জানাজা দেওয়া হতো।
এত গুরুত্ব দিত। তবে দুইটা কাজে তাদের
দুর্বলতা আসছে। এক সামরিক ব্যবস্থায়
দুর্বলতা আসছে। দুই দাওয়াতি কাজে
দুর্বলতা আসছে। মনে রাখবেন মুসলমান যদি
দাওয়াতি কাজে দুর্বলতা করে তো
মুসলমানদেরও বিভিন্ন সেক্টরে বিভিন্ন
ক্ষেত্রে পতন অনিবার্য।
দাওয়াতি কাজ এটা গুরুত্ব দিতে হবে
যথেষ্ট। তখন আপনার ফিলিস্তিনের মধ্যে
শিক্ষা দীক্ষার অভাবে একটা ঝামেলা হয়ে
গেল। সেই ঝামেলা ফিলিস্তিনের ভাগ্যে একটা
ভয়ঙ্কর জিনিস নিয়ে আসলো। সেটা কি বলেন?
300 বলেন
59 হিজরীতে
ফিলিস্তিনের শিয়াদের হাতে চলে গেল। কাদের
হাতে? এই ফিলিস্তিনের ভাগ্যে ভয়ঙ্কর এক
জাতি আসলো। তাদেরকে বলা হয় উবাইদিয়া।
বলেন কি বলা হয়? উবাইদিয়ারা শিয়া
আকিদায় বিশ্বাসী ছিল। তাহলে আবার বলি 264
হিজরীতে ফিলিস্তিন শাসন করল যারা তাদেরকে
বলা হয় তুলুনী। তুলুনীরা 57 বছর শাসন
করার পর 321 হিজরীতে তাদের পতন ঘটে। 321
হিজরীতে ইশিদ নামক এক জাতি তারা ইশিদ
সাম্রাজ্য গড়ে তোলে। 38 বছর শাসন করার পর
তাদের পতন ঘটায় যারা তাদেরকে বলা হয়
ওবাইদ। উবাইদিয়ারা ছিল শিয়া আকিদায়
বিশ্বাসী। তারা 359 থেকে নিয়ে 463 হিজরী
প্রায় 104 বছর ফিলিস্তিন শাসন করে। কারা?
শিয়ারা। এখানে একটু মনে রাইখেন 359
হিজরীতে শিয়ারা মিশরও দখল করে। অন্যদিক
দিয়ে ফিলিস্তিনও দখল করে
359। এখন একটু মনে রাখবেন। উবাই বা শিয়া
যারা তাদের গ্রুপ দুইটা। একটা হল
মুস্তালিয়া আরেকটা হল নিজারিয়া।
শিয়াদের এই 104 বছর ফিলিস্তিন শাসনের
মধ্যে 60 বছর শাসন করে একজন। কয় বছর? মানে
104 বছরের পরে 60 বছরই একজন। তার নামটা কি
বলব? মুস্তানসির লিনিল্লাহ। তার
নাম। কি নাম? মুস্তানসির লিনিল্লাহ। এর
নাম হল মুস্তানসির লিনিল্লাহ। তার শাসন
আমলে মনে রাইখেন
400 32
হিজরীতে উত্তর আফগানিস্তান এবং পূর্ব
ইরাকে নতুন একটা দলের উত্থান ঘটে এই
দলটাকে আপনারা ইংরেজি অনেক বইয়ে পাবেন
শেলযুগ
সাম্রাজ্য এই সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতার
নাম সালজুগ ইবনে
দুক্কা তাদের প্রধানকে বলা হতো
সুলতান তাদের এক সুলতানের নাম আলপ আরসালান
এই আলপ আরসালানের একজন সেনাপতি তার নাম
ছিল আতশিজ। এই
আতশি
463 হিজরীতে গিয়ে শিয়াদের হাত থেকে
ফিলিস্তিন উদ্ধার করে। তার নাম হল
আত। ফিলিস্তিন উদ্ধার করার পর আতশিস কি
করল? নিজেরে নতুন করে সম্রাট ঘোষণা করল।
তিনি বললেন আমি সেলযুগ সাম্রাজ্যের সাথে
নাই। আমি নিজে এখন ফিলিস্তিনের শাসক। তিনি
কি করলেন? 463 থেকে 471 হিজরী পর্যন্ত
ফিলিস্তিন শাসন করলেন। এই বিষয়টা সেলযুগ
সাম্রাজ্যের সুলতান তার নাম আলপ আরসালান।
তার ছেলে বিষয়টা সুন্দরভাবে নেয় নাই।
তার ছেলের নাম হল তুতুস। কি নাম? সে
ফিলিস্তিন আসলো। আসার পর ওই আতশিজ নামক
ব্যক্তিকে তার হাত থেকে ফিলিস্তিন উদ্ধার
করে। সে তার নিযুক্ত এক গভর্নর তার নাম
আরতুক। এই আরতুককে ফিলিস্তিনের দায়িত্ব
দেয়। একটু এই জায়গাটা বন্ধ।
আরতুক নামক ব্যক্তি ফিলিস্তিন শাসন করছে
471 থেকে 489 হিজরী পর্যন্ত 18
বছর। এই 18 বছর শাসন করার পর 489 থেকে
492। আহা আবার শিয়াদের দুই গ্রুপের নাম
বলছিলাম। একটা মুস্তালিয়া আরেকটা
নেজারিয়া। এই মুস্তালিয়া গ্রুপ আবার
ফিলিস্তিন দখল করে। তারা তিন বছর আবার
ফিলিস্তিন শাসন করে। 489 থেকে 492 হিজরী।
এবার একটু মনে রাখেন ক্রুসেডার নামে কিছু
শুনছেন? ক্রুসেড। সেডার আচ্ছা 490 হিজরী
বলেন কত
হিজরী সারা ইউরোপ এক হয়ে গেল এক হয়ে
যাওয়ার পর তারা পাঁচটা বাহিনী প্রস্তুত
করল এই পাঁচ বাহিনীকে তারা ফ্রান্স থেকে
পাঠাইলো তাদের উদ্দেশ্য তারা বিভিন্ন
এলাকায় নতুন সাম্রাজ্য গড়বে সেই
সাম্রাজ্যের নাম দিবে ক্রুসেট সাম্রাজ্য
ক্রুসেড বা ক্রুসেডার বলা হয় যারা
ধর্মযুদ্ধ করবে যারা নিজেদেরকে মনে করে
আমরাই সঠিক পৃথিবীর সব ভুল তাদেরকে বলা
হয় ক্রুসেডার
পাঁচটা বাহিনী রওনা করল 490 হিজরীতে
ফ্রান্স থেকে যে এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা
করল এলাকার নাম
কনস্টন্টিনিপোল সেখানে উদ্দেশ্যে রওনা করল
একটু বুঝেন তারা বিভিন্ন এলাকা জয় করতে
করতে তখন মুসলমানদের পুরা পৃথিবীতে বিশাল
এলাকা জুড়ে মুসলমানদের সাম্রাজ্য এই
বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে তারা নতুন করে
মুসলমানদেরকে একেক এলাকায় হারাইতে
হারাইতে তারা নতুন নতুন সাম্রাজ্য গড়ে
তুলল সাম্রাজ্যের নাম দিল ক্রুসেট
সাম্রাজ্য
কি
সাম্রাজ্য? 490 এ তারা সফর শুরু করল। 492
হিজরী। বলেন কত হিজরী? 492 হিজরী। এই 492
হিজরী তথা
ইংরেজি 999 খ্রিস্টাব্দের জুন মাসে
ক্রুসেডাররা গিয়া ফিলিস্তিন উপস্থিত হল।
কোন মাসে? কোন মাসে? জুন মাসে। আগামী
মাসের নাম কি? জুন মাসে। ক্রুসেডাররা
ফিলিস্তিন উপস্থিত হওয়ার পর আল কুদ শহরের
উপর তারা পাঁচ সপ্তাহ গোলা বারুদ পাঠাইছে।
খালি আগুনের গোলা পাঠাইছে। পাঁচ সপ্তাহ।
আল কুদ বাইতুল মুকাদ্দাস যেখানে পাঁচ
সপ্তাহ আগুনের গোলাপ এভাবে নিক্ষেপ করছে।
কারা? ক্রুসেডাররা। পাঁচ সাপ্তাহ নিক্ষেপ
করার পর ক্রুসেডাররা আল কুদ শহর দখল করছে।
করার পর ঘোড়ার উপরে সওয়ার হয়ে তারা আল কুদ
শহরে প্রবেশ করার পর 70 হাজার মুসলমানকে
জবাই করে হত্যা
করছে। কয় হাজার? 70,000 ক্রুসেডারদের দখলে
চলে গেল ফিলিস্তিন। খুব ভালো করে মন দিয়ে
শুনেন। 492 হিজরীতে ক্রুসেডাররা ফিলিস্তিন
দখল করল। 507 হিজরী। কত হিজরী ভাইয়া? 507
হিজরীতে অন্য এলাকায় ক্রুসেডারদের সাথে
মুসলমানদের একটা লড়াই হয়। আল্লাহর
কুদরতে ওই লড়াইয়ে
ক্রুসেডারদের ক্রুসেডারদের সাথে
মুসলমানদেরকে আল্লাহ বিজয় দান করছে। কত
হিজরী? 507। ওই 507 হিজরীতে মুসলমানরা যে
বিজয় অর্জন করছে তাদের মধ্যে একজন
মুজাহিদের নাম হল ইমামউদ্দিন। কি নাম?
পুরা নাম ইমামউদ্দিন জেনকি রহমতুল্লাহি
আলাই। তার বয়স তখন 24 বছর।
এই 24 বছরের এক বীর বাহাদুর সাহসী যুবক
মাত্র 24 বছর
বয়স তার উত্থান ঘটলো। 507 হিজরীতে তিনি
মুসলমান ভূখন্ডগুলোকে আবার একত্রিত করে
530 হিজরীতে আবার তিনি ক্রুসেডারদের
বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করলেন। নাম কি?
ইমামউদ্দিন জেনকি রহমতুল্লাহি আলাই। লড়াই
করতে করতে বিভিন্ন এলাকায় ক্রুসেডারদেরকে
আবার হারাইতে লাগলেন। ঘটনাচক্রে
ইমামউদ্দিন জেনকি 541 হিজরীতে আততাইদের
হাতে তিনি শহীদ হয়ে যান। মুসলমানদের
লিডার নাম কি? ইমামউদ্দিন জেনকি
রহমতুল্লাহি আলাই 541 হিজরীতে শহীদ হয়।
আপনারা যদি কষ্ট না পারে এই জায়গায় একটা
জিনিস মনে রাখেন। ফিলিস্তিন এখন কাদের
দখলে? ক্রুসেডার। কাদের দখলে? ফিলিস্তিনের
একটা অঞ্চল আছে নাম আর কি নাম? বলেন কি
নাম? আসকালান এখানে ওলামায়ে কেরাম আছেন
বুখারীর একটা ব্যাখ্যাগ্রন্থ আছে ফাতুল
বারী এটার লেখকের নাম ইবনে হাজার আসকালানী
সেই আসকালান ফিলিস্তিনের আসকালান একটা
এলাকা আছে ফিলিস্তিন পুরাটা ক্রুসেডারদের
হাতে গেলেও আসকালান তখনও শিয়াদের দখলে
আসকালান কাদের দখলে এটা একটু মনে রেখেন না
হয় ইতিহাসটা সুন্দরভাবে বুঝবেন তাহলে ওই
চাপারটা রাখেন যে ফিলিস্তিন ক্রুসেডারদের
দখলে বা খ্রিস্টানদের দখলে তবে আসকাল নামক
শহরটা তখনো মুসলমানদের দখলে মুসলমান বলতে
শিয়াদের
দখলে 541 হিজরীতে ইমামউদ্দিন জেনখি শহীদ
হয়ে গেলেন তার চারজন পুত্র সন্তান ছিল এই
চারজনের দুইজনের বিখ্যাত নাম মনে রাখবেন
একজনের নাম নুরুদ্দিন আরেকজনের নাম
সাইফুদ্দিন তিনি ইতিহাসে নুরুদ্দিন জঙ্গি
রহমতুল্লাহি
আলাই উনার নামও নুরুদ্দিন জিনকি আর আমরা
তিনি জিহাদের ময়দানে লড়াই করতেন জিহাদকে
জং বলা হয় এজন্য বলা হয় নুরুদ্দিন জঙ্গি
রহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি কার ছেলে?
ইমামুদ্দিনের ছেলে দুই ছেলে। একজন
নুরুদ্দিন আরেকজন
সাইফুদ্দিন। এই দুই ছেলে বাবার অসমাপ্ত
কাজ সমাপ্ত করতে লাগলেন। 545 হিজরী
পর্যন্ত বিভিন্ন ক্রুসের সাম্রাজ্যগুলা এই
নুরুদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাই একের পর এক।
আবার মুসলমানদের দখলে আনতে লাগলেন।
সুবহানাল্লাহ।
বলেন তো ফিলিস্তিনের একটা এলাকা
ক্রুসেডাররা দখল করতে পারে নাই। তখনও কি
নাম?
ঘটনাচক্রে 548 হিজরীতে ক্রুসেডাররা
আজকালান শহরটাও শিয়াদের কাছ থেকে দখল করে
নিয়ে। দখল করার পর শিয়ারা তখন সাহায্য
চাইল মুসলমানদের সেনাপতি নুরুদ্দিন জঙ্গি
রহমতুল্লাহি আলাইর কাছে চিঠি লিখলেন যে
এতদিন আজকালটা আমাদের দখলে ছিল। এখন
ক্রুসেডাররা এটা দখল করে নিছে। আপনার কাছে
আমরা সাহায্য চাই। নুরুদ্দিন রহমতুল্লাহর
আকিদা ছিল স্বচ্ছ। তিনি শিয়াদের আকিদায়
বিশ্বাসী ছিলেন না। কিন্তু তিনি দেখলেন
খ্রিস্টানরা যেহেতু মুসলমানদের বিরুদ্ধে
তাই তিনি বিষয়টা গুরুত্ব সহকারে
নিলেন। কথাটা বুঝছেন নি? সাহায্য চাইল
কারা? শিয়ারা। এখন উনি গুরুত্ব দিছে কেন?
যে আসলে এখানে খ্রিস্টানরা তো শিয়াদেরকে
মুসলিম মনে করে কি করছে? এখান থেকে
সরাইছে। তাই নুরুদ্দিন জঙ্গি রহমতুল্লাহ
বিষয়টা গুরুত্ব দিলেন। কত হিজরী? 548
হিজরী।
548 হিজরীতে নুরুদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাই
ফিলিস্তিনের দিকে মনোনিবেশ করলেন। তখন তার
সামনে দুইটা বাধা। একটা হলো দামেশ আরেকটা
হল মিশর। ইতিমধ্যে উনি দামেশ বিজয় করলেন।
বাধা রইল মিশর। মিশরে তখনও শিয়া শাসন। আমি
আপনাদেরকে বলছিলাম মিশর দখল করছে শিয়ারা।
359 হিজরীতে। শিয়ারা 359 হিজরীতে। 359
থেকে নিয়ে
57 হিজরী পর্যন্ত শিয়ারা মিশর দখল করে
রাখছিল। মানে প্রায় 198 বছর শিয়ারা মিশর
শাসন করছে। 198 বছর আচ্ছা যাই হোক মূল
বিষয়টা বলি। 548 হিজরীতে নুরুদ্দিন
রহমতুল্লাহ দেখলেন বাধা শুধু কি মিশর। এখন
তিনি চিন্তা করলেন মিশরের উপর দিয়ে কিভাবে
ফিলিস্তিন যাওয়া যায়। ঘটনাচক্রে মিশরের
তখন যে শিয়া শাসক ছিল তার নামটা বলি। যদি
পারেন মনে রাখবেন। আল আজিজ বিল্লাহ। কি
নাম? নাউজুবিল্লাহ। সে নিজের স্বার্থ
উদ্ধারের জন্য 27 28 বছরের এক তরুণের হাতে
মিশরের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়। সেই
তরুণের নাম সালাউদ্দিন আইয়ুবী
রহমাতুল্লাহি
আলাই। আপনাদের মাথায় আসতেছে হুজুর কি
কইতাছি তো আগে শুনছি সালাউদ্দিন
নুরুদ্দিন। ওই সালাউদ্দিন ওই ইতিহাসের যে
বীর
সালাউদ্দিন। 27 28 বছরের তরুণ সালাউদ্দিন
আইয়ুবী রহমতুল্লাহ আলাইকে মিশরের
প্রধানমন্ত্রী বানাইলেন কে? শাসক আল আজিজ
শিয়া। ওর টার্গেট ছিল কি?
ওর টার্গেট ছিল স্বার্থ উদ্ধার করা যে ওর
মাধ্যমে আমি একটু ক্ষমতাটা পাকাভুক্ত করব।
কিন্তু সালাউদ্দিন আইয়ুব রহমাতুল্লাহ
জানতেন যে তোদের আকিদা যে যত খারাপ উনি কি
করলেন? শিয়াদের হাত থেকে মিশরকে উদ্ধার
করলেন
567 হিজরীতে তিনি মিশরকে শিয়াদের হাত থেকে
পরিপূর্ণরূপে উদ্ধার করে মিশরের স্বচ্ছ
আকিদা প্রতিষ্ঠিত করলেন
সালাউদ্দিন আইয়ুব। তাহলে সালাউদ্দিন
আইয়ুবী রহমাতুল্লাহ আলাই এখন মিশরে তো
নুরুদ্দিনের জন্য বিষয়টা সহজ হয়ে গেল।
তিনি সালাউদ্দিন আইয়ুবী রহমতুল্লাহ
আলাইকে বললেন ফিলিস্তিন যেতে হবে কিভাবে
যাওয়া যায় একটু বলেন। ইতিমধ্যে 559
হিজরীতে নুরুদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাই
ইন্তেকাল করলেন। তখন মুসলমানদের সেনাপতি
হলেন সালাউদ্দিন আইয়ুবী রহমতুল্লাহি
আলাই। তিনি ফিলিস্তিনকে গুরুত্ব দিলেন।
গুরুত্ব দিতে দিতে 583 হিজরীতে একটা যুদ্ধ
হয়। ক্রুসেডারদের সাথে এই যুদ্ধের
স্থানটার নাম মনে রাখবেন
হিতিন কি নাম হতনে মুসলমানদের সৈনিক ছিল
12 আর ক্রুসেডারদের সৈনিক ছিল 63000 এই
63000 সশস্ত্র বাহিনীর সাথে মাত্র 12
মুসলমানকে আল্লাহ বিজয় দান করছে
সেনাপতি ছিলেন সালাউদ্দিন আইয়ুবী এ তখন
থেকে সালাউদ্দিন আইয়ুবী রহমাতুল্লাহ নাম
সারা পৃথিবীতে ছড়ায়া যায় আর বর্তমানে আমরা
নামকামের জন্যই ফেসবু এ ধারস্থ হওয়া ছাড়া
আমাদের নাম কোনভাবেই কিন্তু হবে
না। ওনাদের নামগুলা এখন আমরা জানি ইখলাস
ছিল। আমাদের তো ইখলাস
নাই। 583
হিজরীতে যুদ্ধে খ্রিস্টান 63 হাজার
ক্রুসিডারকে হারানোর পর এদের ভিতরে একটা
ভয় ঢুকে গেছে। সর্বনাশ সালাউদ্দিন আবার
কি?
এরপরে এক মাসের মধ্যে উনি একের পরে এক
অঞ্চল মাত্র এক মাসের মধ্যে একের পর এক
অঞ্চল সূচনীয়ভাবে পরাজিত করতে করতে মাত্র
এক মাসের ব্যবধানে ফিলিস্তিন ঢুকে গেছে।
কয় মাসের ব্যবধান?
অথচ এর আগে 92 বছর পর্যন্ত ক্রুসেডাররা
ফিলিস্তিন দখল করল। কেউ সাহস করে নাই। উনি
মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ফিলিস্তিন ঢুকে
গেছে। ফিলিস্তিন ঢুকার পর উনি শান্তি
প্রস্তাব করলেন। পাদ্রীদেরকে বললেন
শান্তিতে যদি ক্ষমতা ছেড়ে দেন ব্যাস কোন
সমস্যা নাই। পাদ্রীরা মানলো না কথা। বলল
না আমরা ক্ষমতা ছাড়বো না। তখন তিনি
মিনজানিক একটা এলাকা আছে। সেখান দিয়ে 12
দিন টানা আক্রমণ চালাইলেন। আলখুদ শহরের
উপরে 12 দিন টানা আক্রমণের ফলে পাদরীরা
বুঝতে পারছে সালাউদ্দিনের সাথে পারা যাবে
না। তখন পাদরীরা কি করল? পাদ্রীরা শান্তি
প্রস্তাব মেনে নিল। সালাউদ্দিন আইয়ুবী
বললেন না এখন আর আমি মানি না তোমরা 92 বছর
মুসলমানদের সাথে যে আচরণ করছো আমিও সেটা
করব 92 বুঝছেন নি 492 থেকে 583 কত হয় আরে
492 583 কত 92 ভাই সব এমনে তাকায় রইছে
আপনারা আমি অংকে কাঁচা এরপরে তো সঠিক মনে
হয় আমারটা
92 হয় না তো এইতো
92 83 পর্যন্ত তো বললেন তুমি যা আচরণ করছো
আমিও তোমার সাথে সেটাই
করব তখন তখন খ্রিস্টানরা কি বলল জানেন? যে
তুমি যদি আমাদের উপর আক্রমণ চালাও আমরা
আমাদের স্ত্রীদেরকে হত্যা করবো। চিন্তা
করেন। আমরা আমাদের শিশুদেরকে হত্যা করবো।
কারণ খ্রিস্টানরা জানে যে মুসলমানদের নবী
মুসলমানদেরকে শিক্ষা দিছে যে
যুদ্ধক্ষেত্রেও শিশু আর নারীদেরকে যেন
তোমরা সেভ রাখো। তখন খ্রিস্টানরা টোপ
মারলো যে, মুসলমানরা একটা জায়গায়
দুর্বল। সেটা কি? শিশু আর নারীদেরকে যদি
সামনে নেওয়া যায় ওরা আমাদের উপর আক্রমণ
চালাবে না। হুমকি দিল আমাদের উপর হামলা
চালাইলে আমরা আমাদের স্ত্রীদেরকে হত্যা
করমু। শিশুদেরকে হত্যা করমু। আর 5000
মুসলমান আছে আমাদের এলাকায় ওদেরকে জবাই
করমু। সালাউদ্দিন আইন রহমাতুল্লাহ চিন্তা
করলেন শিশু নারীদেরকে হত্যা করবে। এ
বিষয়টা তো খারাপ। তখন তিনি শান্তি
প্রস্তাব মেনে নিলেন। সুবহানাল্লাহ পড়েন।
কারণ মুসলমানরা যে আপনার নারী শিশুদের
প্রতি কতটা দয়া শিখাইছে আল্লাহ রাসূল।
এটা যেন সারা পৃথিবী বুঝে। আজকে
নারীবাদীরা স্লোগান দেয় যে কি মুসলমানরা
তাদেরকে নাকি ঠকাইছে ওরা যদি বুঝতো ওদেরকে
কি পরিমাণ সম্মান দিছে তাহলে এইভাবে
রাস্তাঘাটে আইসা অবুঝের মত এই আন্দোলন
করতো না
[প্রশংসা]
সালাউদ্দিন আইয়ুবী রহমতুল্লাহ আলাইহি
ফিলিস্তিন দখল করলেন। সালাউদ্দিন আইয়ুবী
583 থেকে 589 589 তে তিনি মারা গেলেন।
সালাউদ্দিন আয়ুবী রহমতুল্লাহ মারা যাওয়ার
পর ফিলিস্তিনের শাসক কে হবে এটা নিয়ে
মুসলমানদের মাঝে দ্বন্দ চলতেছে। দ্বন্দ
চলল নয় বছর। দ্বন্দ চলল কয় বছর? নয় বছর।
নয় বছর দ্বন্দ চলার পর 598 হিজরীতে
সালাউদ্দিন আইয়ুবীর ভাই আদিল ফিলিস্তিনের
শাসন হলেন। এই আদিল ফিলিস্তিনের শাসন
ক্ষমতায় আসার পর 598 থেকে 615 হিজরী
পর্যন্ত ফিলিস্তিন শাসন করে
আদিল। 615 হিজরীতে ফিলিস্তিনের শাসন আসে
কামিলের হাতে। কি নাম বলেন তো? কামিল। এই
কামিল 615 থেকে 635 হিজরী পর্যন্ত 20 বছর
ফিলিস্তিন শাসন করেছে। তবে ফিলিস্তিনের
কিছু অঞ্চল এই কামিল ইচ্ছা করে
ক্রুসেডারদের হাতে তুলে দিছে।
নাউজুবিল্লাহ। 635 থেকে 637 পর্যন্ত আবার
কিছুটা ভাটা পড়ে। 637 এ ফিলিস্তিনের শাসক
হন নাজিমুদ্দিন আইয়ুব রহমতুল্লাহ আলাই।
এই নামটা মনে রাইখেন। কি নাম? অথচ উনার
নামটা ইতিহাসে অনেক মনে রাখা দরকার।
কিন্তু আমরা এটা মনে রাখি না। কি নাম?
নাজমুদ্দিন আইয়ুব। নাজিমুদ্দিন আইয়ুব
রহমতুল্লাহ আলাইর একজন ভাতিজা ছিল নাম
ইসমাইল। কি নাম? এই ইসমাইল আবার কি করছে?
দামেশ দখল করছে। দখল করার পর তার মধ্যে
একটা ক্ষমতার লোক ছিল। সে ক্রুসেডারদের
সাথে হাত
মিলাইছে। হাত মিলিয়ে কি করল? ফিলিস্তিনের
কিছু অঞ্চলের শাসক নাজমুদ্দিন আইয়ুব। মনে
রাখেন কিছু অঞ্চল। আর বাকি অঞ্চলগুলা শাসক
ছিল ক্রুসেডাররা। ইতিমধ্যে ক্রুসেডারদের
হাত থেকে নাসির নামে একজন ফিলিস্তিন
পুরাটা উদ্ধার করে। উদ্ধার করার পর ওই
নাসিরের মনের নিয়ত হলো আমি হব একচ্ছত্র
শাসক। মানে তারও ক্ষমতার লোভ। ওদিক দিয়ে
নাজমুদ্দিন আইয়ুবের ভাতিজা ইসমাইল তারও
ক্ষমতার
লোক। ইসমাইল কি করল? ফিলিস্তিন আসলো। আসার
পর ক্রুসেডারদের সাথে হাত মিলাইয়া নাসিরের
কাছ থেকে ফিলিস্তিন দখল করে ক্রুসেডারদের
হাতে দিয়ে দিল। আর বলল আমার উপর যেন কোন
সমস্যা না হয়। বিষয়টা একটু খেয়াল রাইখেন।
কাদেরকে? ক্রুসেডারদেরকে। নাজমুদ্দিন
আইয়ুবের কাছে ফিলিস্তিনের কিছু অঞ্চল। আর
বাকিটা আবার ক্রুসেডারদের কাছে। এবার বলেন
642 কত?
642 হিজরীতে নাজমুদ্দিন আইয়ুবের হাতে আবার
ফিলিস্তিন পুরাটা চলে আসে। এই 642 থেকে
1335 তথা প্রায় 700 বছর পর্যন্ত মুসলমান
ফিলিস্তিন শাসন 133500 বছর। আর ইংরেজি
হইলে 1244 থেকে 1917 খ্রিস্টাব্দে পর্যন্ত
1244 থেকে 1917 দেখেন কত বছর হয় প্রায়
700 বছর ফিলিস্তিন মুসলমান শাসন করে 1917
সালে ফিলিস্তিনে ইয়াহুদিদের সংখ্যা মাত্র
8% কয় পারসেন্ট আর ফিলিস্তিন কাদের দখলে
মুসলমানদের 8% আজকে আমি আমার তবিয়তের
বাহিরে আলোচনা করতেছি এজন্য আলোচনাটা মন
দিয়ে শুনেন 60 মিনিটের বেশি কিন্তু
আলোচনা করি না হয়ে গেছে 80 মিনিট এটা
পুরা ইতিহাস ব্রেক হইতেছে
8%
ইয়াহুদি তখন ফিলিস্তিন দখল ফিলিস্তিনে আছে
মাত্র 8% ইয়াহুদি 1917 সনের কথা মনে
রাখবেন 1917 এটা একটা ইতিহাস মনে রাখবেন
ইয়াহুদিরা একটা চিন্তা করল 8% ইয়াহুদি কি
চিন্তা আমরা দুনিয়ার যত ইয়াহুদি আছে
সবাইকে আবার ফিলিস্তিন একত্রিত করব করার
পর আমাদের বাপ-দাদাদের সম্পদ আবার ফেরত
নিমু ফিলিস্তিন আমাদের আদিনিবাস বলেন তো
আসলে ওদের আদিনিবাস না আমি ইতিহাস বললাম
আমাদের আদিবাই বাদশা ওদের বলে আমরা এটা
উদ্ধার করতে হবে করার পর বাইতুল মুকাদ্দাস
এখান থেকে নিয়ে মদিনা পর্যন্ত লম্বা একটা
এলাকা আমাদের হাতে নিতে হবে এই পুরা
এলাকাটা একটা সাম্রাজ্য গড়ে তুলবো আমরা
এটার নাম দিছে তারা গ্রেটার ইসরাইল কি নাম
দিছে গ্রেটার ইসরাইল এটা হল তাদের একটা
টার্গেট ওই সাম্রাজ্যের মধ্যে থাইকা পুরা
দুনিয়া তারা শাসন করবে আর তাদের কথায়
চলবে দুনিয়া এটা হল ইয়াহুদিদের টার্গেট
এটাকে আরবিতে বলা হয় সাইহুনিয়া এটাকে
ইংরেজিতে বলা হয় জাইয়ুনিজম আর বাংলায় আম
মন যা চায় তা
কর আমাদের মন মত চালামু
দুনিয়া আরবি ইংরেজি হল যাইনিজ বাংলা মানে
আমরা যা মন চায় তা করো মন মত দুনিয়া চলতে
হবে তখন তারা 1917 তে ফিলিস্তিনের
মুসলমানদের কাছ থেকে কম দামী জমিগুলা বেশি
বেশি দাম দিয়ে কিনে টার্গেট বেশি দামের
জমিগুলা কিনে কিনে এলাকা বাড়ামু। তখন
ভারতীয় উপমহাদেশের ওলামায়ে কেরাম ফতোয়া
দিয়েছিলেন ফিলিস্তিনের মুসলমানরা ইহুদিদের
কাছে জমি বিক্রি করবা না। তাদের
দুর্বিসন্ধি আছে কোন তাদের টার্গেট
উদ্দেশ্য মনে হয় ভালো
না। যেই ঘটনাটা কাশ্মীরে ঘটতেছিল কাশ্মীর।
কাশ্মীরের কিছু অঞ্চলে কিন্তু আপনার
হিন্দু সম্প্রদায় প্রচুর জায়গা কিনা শুরু
করছিল। ভারতের ওলামায়ে কেরাম মিশর
আল্লামা তাকি উসমানী হাফিজাহুল্লাহ তিনিও
বলেছিলেন যে না না না এদের কাছে জমি
বিক্রি করবা না টার্গেট বেশি ভালো না
এজন্য এখনো মুসলমানদের বেশিরভাগের একটা
অংশ এখনো কাশ্মীর জুড়ে আছে না না হয়
কিন্তু এভাবে জমি জমি দখল করতে করতে নিয়ে
নিতো
পুরাটা তো ভারত উপমহাদেশে ওলামায়ে কেরাম
বলছিলেন জমি বিক্রি করেন না যদিও বিক্রি
করা জায়েজ কিন্তু বলছে বিক্রি করেন
না কিন্তু এরপরেও ভাই কম দামী জমিন যদি
বেশি দামে পায় আপনার জমিনের দাম পা লাখ
বললাম পা কোটি দিমু
না করলেও
তুমি এইভাবে কম দাম জমি বেশি দামে কিনতে
কিনতে জমি বাড়াইলো আর জনগণ বিভিন্ন দেশ
থেকে ইহুদিদেরকে আনতে আনতে 1917 থেকে 1948
কয় বছর হয় একটু হিসাব করেন তো 1917 থেকে
1948 30 31 নাকি 31 এইমাত্র 30 31 বছরে
তারা 30% ইয়াহুদি বাড়াইলো 1917 ছিল 8%
1948 এ গিয়ে হল আর 30%
চিন্তা করছেন আর 30% ইহুদি হওয়ার পর তারা
আলাদা একটা এলাকা জুড়ে সাম্রাজ্য গড়ে
তোলার পর ওই এলাকাটার নাম দিল ইসরাইল সেটা
বলল তারা নাম দেওয়ার পর এটাই একটা
রাষ্ট্র দালাল কিছু দেশের সহযোগিতা এর
মধ্যে অন্যতম ব্রিটেন এদের সহযোগিতায়
তারা একটা রাষ্ট্রের ঘোষণা দিল সেই
রাষ্ট্রের নাম ইসরাইল কি নাম
সেটা হল
এই এদিক পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করল এদিক
ইসরাইলের স্বাধীনতা পাকিস্তানের মোহাম্মদ
আলী জিন্না মৃত্যুর আগে তার বোন লেখছে তার
সম্পর্কে যে ভাইজান বলছিল মৃত্যুর আগে
তিনটা কথা মুহাজির ফিলিস্তিন কাশ্মীর
মুহাজির ফিলিস্তিন কাশ্মীর এটা বলছিল বইলা
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়তে পড়তে ভাই
ইন্তেকাল করছে এখান থেকে বোঝা যায় আগের
মুসলিম শাসকরা ফিলিস্তিন নিয়ে ভাবতো
কাশ্মীর নিয়ে ভাবতো বর্তমান মুসলিম
শাসকরা মুনাফিক রূপী একটা মুখোশ পড়ে বসে
আছে
তখন তখন তারা ভাবতো এটা
নি। তো
ফিলিস্তিন একটা অংশ মানে জোর কইরা নিয়ে
গেলে বানাইলো ইসরাইল। এখন ইসরাইল রাষ্ট্র
হইলো। এরপর আগে কিছু কি করছে আপনার?
জায়গা কিনছে। এখন কি করে? দখল। এখন দখল।
আর খালি বোমা মারে। অস্ত্র দিয়ে আঘাত
করে। এই আঘাত করতে করতে 1967 তে তিনটা দেশ
মিলে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছিল। জরদান,
সিরিয়া, মিশর। জরদান, সিরিয়া, মিশর।
1967 তে ইসরাইলের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল।
ছয় দিনে ইসরাইল তাদেরকে ধরাশয়ী করে
ফেলছে। কয় দিনে? ছয় দিনে। তবে এই ছয়
দিনে ধরাশয়ী হওয়ার একটা কারণ আছে।
আমাদের পার্শ্ববর্তী একটা রাষ্ট্র
মুনাফিকি মার্কা আচরণ করেছিল। ওই
মুনাফিকের কারণে তখন ওই তিনটা রাষ্ট্র
ইসরাইলের কাছে ধরাশয়ী
হয়েছে। মুনাফিক সাহেবরা কোথায়? আমাদের
আশেপাশে। ওদের একটা মুনাফিক ছিল। এই
মুনাফিকি গাদ্দারির কারণে তখন আপনারই
ঘটনাটা ঘটছে। তবে তাদের একটা স্লোগান ছিল
তিন দেশের স্লোগানটা তত সুন্দর স্লোগান
না। স্লোগান ছিল আল ইজ্জতল আরব সম্মান
আরবের। এই স্লোগানটা হল জাতীয়তাবাদের
স্লোগান। জাতীয়তাবাদের স্লোগান ইসলাম
সমর্থন করে না।
পরবর্তীতে ফিলিস্তিনের পক্ষে মুজাহিদরা
লড়াই করতে লাগলো। মুজাহিদের স্লোগান
আলজুলিল্লাহ। সম্মান আল্লাহর। এটাই হল
প্রকৃত স্লোগান। মুসলমানের স্লোগান সম্মান
আল্লাহর মুসলমানের স্লোগান রাষ্ট্র
আল্লাহর সম্মান আল্লাহর ইদানিং খেলা
আমাদের দেশে নতুন একটা স্লোগান আছে আগে
বলতো রাষ্ট্র যার ধর্ম যার যার উৎসব সবার
তো এটা বেশিদিন টিকে নাই এখন নতুন একটা
স্লোগান ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সভার এটা
নতুন স্লোগান না এটাও সঠিক স্লোগান
না বলেন আমার সাথে রাষ্ট্র বলেন বলেন
রাষ্ট্র আল্লাহর আল্লাহর মনোনীত ধর্ম
আল্লাহর
মনোনীত ধর্ম কার রাষ্ট্র কার রাষ্ট্র
আল্লাহর রাষ্ট্রসভার মানে রাষ্ট্র
আল্লাহর এটা নতুন একটা ওষুধ কিন্তু খায়েন
না
এটা রাষ্ট্র যার ধর্ম যার যার রাষ্ট্রসভার
না এটা নতুন টোপ
মুসলমান বলে ইসলাম আল্লাহর রাষ্ট্র আল্লাহ
মনে থাকবে ইনশল্লাহ এইভাবে তারা তাদের
টার্গেট হলো ফিলিস্তিন থেকে মদিনা পর্যন্ত
বড় সাম্রাজ্য বানাবে এই সাম্রাজ্য বিস্তৃত
অঞ্চল থেকে তারা ফিলিস্তিনের সারা
পৃথিবীকে তারা শাসন করবে এটা তাদের
টার্গেট আমাদের করণীয় কি আমাদের চারটা
করণীয় বলি কয়টা
এক নাম্বার ফিলিস্তিনের পক্ষে জিহাদ করা
যেহেতু প্রাচীরের বাধা আছে এই বাধার কারণে
যেতে পারছি না দুই
নাম্বার প্রস্তুতি নেওয়া জিহাদের
প্রস্তুতি এটা নিতে হবে প্রস্তুতি আল্লাহ
কখনো সুযোগ দিলে আমি যাব ইনশ্লাহ
তিন নাম্বার ফিলিস্তিনের জন্য সাহায্য
পাঠানো। মাশাল্লাহ আমাদের দেশের মানুষ
পাঠাইতেছে। তবে সঠিক সোর্সে পাঠাইতে হবে।
চার নাম্বার ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে
ইসরাইলিরা যেই মাধ্যমে টাকাগুলা কামাই করে
ওই মাধ্যমগুলো বয়কট করা।
এই চারটা কাজ আপাতত আমাদের। এক জিহাদ করা।
দুই প্রস্তুতি নেওয়া। তিন নাম্বার সাহায্য
পাঠানো। এটা আমাদের জন্য সহজ। এখন তিন আর
চারটা আমরা করতে হবে। এখন আপাতত তিন আর
চার সাহায্য পাঠানো। আর চার নাম্বার ওদের
যে মাধ্যমে সহায়তা আসে ওই মাধ্যমগুলা
বয়কট করা। সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহ।
সুবহানাক আল্লাহুম্মা বিহামদিকা আশহাদু
আল্লা ইলাহা ইল্লা আনতা আস্তাগফুকা
UNLOCK MORE
Sign up free to access premium features
INTERACTIVE VIEWER
Watch the video with synced subtitles, adjustable overlay, and full playback control.
AI SUMMARY
Get an instant AI-generated summary of the video content, key points, and takeaways.
TRANSLATE
Translate the transcript to 100+ languages with one click. Download in any format.
MIND MAP
Visualize the transcript as an interactive mind map. Understand structure at a glance.
CHAT WITH TRANSCRIPT
Ask questions about the video content. Get answers powered by AI directly from the transcript.
GET MORE FROM YOUR TRANSCRIPTS
Sign up for free and unlock interactive viewer, AI summaries, translations, mind maps, and more. No credit card required.